শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শেষ মুহূর্তে আলোচনায় একাধিক নেতা
ছাত্রদল, কেন্দ্রীয়. কমিটি, নেতৃত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। দুই বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে জোর তৎপরতা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এরই মধ্যে ছোট করে আনা হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাই শেষে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিদায়ী নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি নতুন কমিটি নিয়ে তাদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার পাশাপাশি শিক্ষাজীবন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-গ্রেপ্তার কিংবা চাপের মুখেও মাঠে ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন—তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলোচনায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক মুখ
নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ আলোচনায় রয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে উঠে এসেছে।
আন্দোলনের ভূমিকা হবে বড় মানদণ্ড
ছাত্রদলের নেতৃত্ব বাছাইয়ে এবার অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে কে কী ভূমিকা রেখেছেন, কে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন, কার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা গ্রেপ্তার হয়েছেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রার্থীদের শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, সাংগঠনিক দক্ষতা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়, আচরণ এবং অতীতের কোনো বিতর্ক বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সেসবও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, দেশজুড়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং স্পষ্টভাবে কথা বলার সক্ষমতাও নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্ব পেতে পারে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা এবং সংগঠনের জন্য অবদান রাখা নেতারা নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অতীতে কারা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে কাজ করার সক্ষমতা কার রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে।
এবার নেই কাউন্সিলের প্রস্তুতি
ছাত্রদলের ইতিহাসে নেতৃত্ব নির্বাচনে সরাসরি ভোটের নজির রয়েছে। ১৯৯২ সালে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি এবং এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে আবার কাউন্সিলরদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। ওই নির্বাচনে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক হন। তবে এবার সরাসরি ভোট বা কাউন্সিল আয়োজনের কোনো প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
অতীতে অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব কিংবা সাবেক নেতাদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও এবার প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ‘সিন্ডিকেটের’ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য নেতাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাংগঠনিক ভূমিকা যাচাইয়ের বিষয়টিই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেয়াদ শেষ হয়েছে মার্চেই
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমানউল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসাবে রাকিবুল-নাছির কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাতেও নতুন নেতৃত্বের আলোচনা
কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৈরিতে এ শাখার ভূমিকার কারণে নতুন কমিটি ঘিরে আগ্রহও বেশি।
এ ছাড়া সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার জিসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘোষণার আগে এখন শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, শিক্ষাজীবন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত নেতৃত্বকেই এবার সামনে আনা হবে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা
আ.দৈ/এসআর




















