রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেখ মুজিবের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ৯:৪৯ এএম  (ভিজিট : ৪১)
X

শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট।। মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের একাংশের অভ্যুত্থানে ১৯৭৫ সালের এই দিনে  তিনি নিহত হন। অভ্যুত্থানে শেখ মুজিবের স্ত্রী, তিন ছেলে ও নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জন নিহত হন।  তবে বিদেশে থাকায় তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

উল্লেখ্য, শেখ মুজিবুর রহমানের নামেই ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগঠিত হয়। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। পাকিস্তানে বন্দি থাকা অবস্থায় একাত্তরের ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।  

 ১৯৭২ সালের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুদিনের মাথায় সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার তিন বছর যেতে না যেতেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেন। বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে অতীত জীবনে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকারী এই রাজনৈতিক নেতা আজীবনের জন্য নিজেকে একনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একদলীয় শাসন, সীমাহীন দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ১৫ আগস্টের ঘটনাকে ত্বরান্বিত করে। শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের কোথাও কোনো ধরনের প্রতিবাদ হতে দেখা যায়নি। 

১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব ছাড়াও নিহত হয়েছিলেন— তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ আবু নাসের, নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, মনির স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, সেরনিয়াবাতের কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের ভাতিজা সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খান (রেন্টু)।

শেখ মুজিব নিহত হওয়ার ২১ বছর পর হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল হয়। ২০০৯ সালে হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস পালন শুরু হয়। 

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীর সরকারি ছুটি ও জাতীয় শোক দিবস বাতিল করা হয়। এরপর থেকে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি পালন করেনি। স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে গত দুই বছর কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও তা সফল হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির অনেক নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছেন। দলটির অনেক নেতা বর্তমানে জেলে, বাকিদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝