জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হচ্ছে: জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে সংস্কারের পরিবর্তে কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে একচেটিয়া ব্যবসা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ সংস্কার নয়; এটি জ্বালানি খাতে ‘দুর্নীতি ও লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ তৈরির প্রক্রিয়া।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা তৈরি নাও হতে পারে। কারণ গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও বিপুল আর্থিক সক্ষমতার কারণে এই ব্যবসায় মূলত কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীরই প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে নতুন একচেটিয়া বাজার তৈরি হতে পারে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে গেলে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তবে এর আগের দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান করেছিল।
জ্বালানি সংকটের জন্য বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাকে দায়ী করারও বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই মূলত বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট ও সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ স্থগিত, খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিন জনমত গ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে উন্মুক্ত শুনানির দাবি জানায় জামায়াত।
একই সঙ্গে বিপিসির সংস্কার, স্বাধীন নিরীক্ষা, পেশাদারদের নিয়ে বোর্ড গঠন, জ্বালানি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা, আমদানি মূল্য ও পরিমাণ নিয়মিত প্রকাশ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
আ.দৈ/আরএস





















