রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে, নইলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে: নাহিদ ইসলাম
নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম  আপডেট: ০৭.০৮.২০২৬ ৮:৪৫ পিএম  (ভিজিট : ৪৪)
X

রাষ্ট্রের কাঠামোগত ও মৌলিক সংস্কার না হলে বর্তমান সরকারও স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মধ্যেও স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু ব্যক্তি বা সরকারপ্রধান পরিবর্তন করলেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হয় না। রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া একই ধরনের স্বৈরাচারী প্রবণতা আবারও ফিরে আসতে পারে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেটিও এই সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু সেই গণরায়ের প্রতি সরকার যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কারের যে দাবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে, সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’—এই বার্তাই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপনের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, সারাদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ইতিহাস বিকৃতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সবার—এই বার্তা সরকার তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে সরকারবিরোধী বা ভিন্ন রাজনৈতিক মতের জুলাই যোদ্ধা ও সমন্বয়কদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোথাও কোথাও তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু স্থানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই উদযাপন করলেই হবে না; এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে হবে।

সম্প্রতি দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে প্রতিরোধে সরকারের কূটনৈতিক ভূমিকা আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন ছিল। শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে সরকারের কঠোর অবস্থান জানানো উচিত ছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সরকার সংস্কার, বিচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে আপস করছে—এমন অভিযোগও করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো রাষ্ট্র সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ১১ দলীয় জোটসহ সংশ্লিষ্ট সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।  তিনি বলেন, কোনো সরকার যখন জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রশাসনিক শক্তি ও সন্ত্রাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া এবং হামলার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ও জুলাইপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের ওপর এ ধরনের আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

চিত্র প্রদর্শনীতে এসময় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারলে ও সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোহ্মদ পরোয়ার এবং শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝