রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফটিকছড়িতে হাসপাতালে ২৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, দুর্ভোগে রোগীরা
আজগর আলী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৫০)
X

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কয়েক দিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

ট্রান্সফরমারের মিটার বিকল হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালটিতে টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং।

এতে শিশু, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, বহুতল ভবনের বাসিন্দা এবং বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে ঘরে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে পানির সংকট। লিফট বন্ধ থাকায় বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অতিরিক্ত গরমে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকেও। অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ট্রান্সফরমারের মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নষ্ট হওয়া মিটার প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফটোস্ট্যাট, কম্পিউটার সার্ভিস, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশনসহ নানা ধরনের সেবা ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিনই তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ফটিকছড়ি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শামসুদ্দিন বলেন, ‘ফটিকছড়িতে দৈনিক প্রায় ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্ত জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। অনেক সময় তা কমে ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ফটিকছড়িসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়ছে।

রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও চিকিৎসাসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

আ. দৈ./কাশেম /জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
স্বাস্থ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝