জুলাই আন্দোলনকালে উত্তরায় হত্যাচেষ্টা মামলায়
ড.কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর সিদ্ধান্ত কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে কলিমউল্লাহকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হাজতি আসামি কলিমউল্লাহর এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার করে। একই দিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির আন্দোলনে অংশ নেন। গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এতে সাব্বিরের বাম হাতের কনুইয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত সাব্বিরকে প্রথমে উত্তরা হাই-কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলায় গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।
কলিমউল্লাহর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তার মক্কেলকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দিয়ে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। তার দাবি, অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে কলিমউল্লাহর মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
আ. দৈ./কাশেম




















