রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে ফ্যাসিস্ট আ’লীগের আইনজীবীরা বহাল, বিএনপিপন্থিরা ক্ষুদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৬)
X

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায়  প্রায় সাড়ে তিনশো আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরমধ্যে অনেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরাও আছেন। বর্তমান সরকারের আমলে একচেটিয়ে সব আইনজীবী এখনো বিএনপিপন্থিরা নিয়োগ পায়নি। এ নিয়ে বিএনপি বিএনপিপন্থিরা একটু ক্ষুদ্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্র জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।এর পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামানকে (বর্তমান আইনমন্ত্রী) অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। ওই বছর ৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন।

 ওই সময় পর্যন্ত ২১৫ জন আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্ত পদত্যাগ করেন ৬৭ জন। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ আরও ৩৪ আইনজীবীকে এএজি পদে নিয়োগ করে অন্তর্বর্তী সরকার। চতুর্থ দফায় ওই বছরের ৪ নভেম্বর ৪১ জন ডিএজির পাশাপাশি ৬৭ জন এএজি নিয়োগ পান। ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের বাকি আইনজীবীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গণঅভ্যুত্থানের পর আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ প্রাপ্তদের বাদ দিলেও, এর পরবর্তী সময়ে সবগুলো নিয়োগেই সুযোগ বুঝে আওয়ামীপন্থি কিছু কিছু আইনজীবীকে আইন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে ৩০৫ জনের মতো আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত।
এদিকে বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুই শতাধিক আইন কর্মকর্তা বিএনপির সক্রিয় অনুসারী। সম্প্রতি জামায়াতপন্থি সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগ করেন। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের অনেককে নিয়োগ না পাওয়ায় আগের আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা এখনো অ্যাটর্নি জেনারেল কাযালয়ে কর্মরত আছেন।

আগে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাছবিচারহীনভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আইন পেশায় নিয়মিত না, যাদের কোনোদিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি। যাদের অনেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের পার্থক্য বোঝেন না। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। তারা মূলত সংখ্যা ভারী করছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যরা বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের নিয়োগ হলো কীভাবে? মনে হয় সর্ষের মধ্যে ভূত রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এর দায় এড়াতে পারে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে অবিলম্বে এই কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

তাদের ভাষ্য, বিএনপিপন্থি যেসব আইনজীবী বিগত ১৭ বছর বিরোধীদলে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, দল ক্ষমতায় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তারা নিয়োগ প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকার দ্রুত এর সুরাহা করবে বলে বিশ্বাস তাদের।
তবে বিএনপির আইনজীবীদের শক্তিশালী অবস্থান থাকার পরও অতীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের এখনো ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল) এবং এএজি (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) পদে বহাল রাখা হয়েছে।

তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আইন অঙ্গনে আন্দোলন-সংগ্রাম করে তাদের অনেককে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে। অনেকেই মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে অন্যায়-জুলুমের শিকার হয়েও তারা এখন যথাযথ পদ পাচ্ছেন না। অথচ বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বাইরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি অনেক আইনজীবী।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অফিস-আদালতের মতো সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও একটা বড় পরিবর্তন আসবে, এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি অবগত, আইনমন্ত্রীকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন এখনো হচ্ছে না।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনির হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক আওয়ামীপন্থি আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলেও আইন কর্মকর্তা পদে তারা বহাল রয়েছেন। ফলে সেখানে এখনো আওয়ামী লীগের দোসর রয়ে গেছে। এই কর্মকর্তারা কি বর্তমান সরকারকে ওউন করেন?

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিনিয়র আইনজীবী জামিল আখতার এলাহী। বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ে ফ্যাসিবাদের ভূত রয়েছে, তাদের মাধ্যমে এসব নিয়োগ হয়েছে। আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান বলেন, সরকারের পলিসি মেকারের স্থানে এখনো বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, এফবিসিসিআই, বিসিবি, বিজেএমইএ, বিকেএমইএ, বিডা ও বেপজায় বিগত সরকারের নিয়োগ করা আইন কর্মকর্তারা রয়ে গেছেন। এমনকি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর, রাজউক ও বাংলাদেশে ব্যাংকেও আগের সময়ের আইনজীবীরা রয়েছেন। কিন্তু পরিসর বিবেচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাজের জায়গাটা ছোট।

তিনি বলেন, এখনো জামায়াতপন্থিরা আছেন সত্যিকার অর্থেই তারা যদি নীতিগতভাবে মনে করেন, জুলাই সনদ ও বর্তমান সরকারের যে আদর্শ বা নীতি তার সঙ্গে তারা একমত পোষণ করছেন না, তাহলে তাদের উচিত সরে যাওয়া। আর আওয়ামী লীগপন্থি যেসব আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছেন, তারা যাদের মাধ্যমেই নিয়োগ পান, তারা হয়তো এখনো আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখার চিন্তাভাবনা করবেন।

জামায়াতপন্থি সিনিয়র আইনজীবী মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলাম। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন বিষয়ে আমরা কাছাকাছি অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু সরকার সেসব বিষয় থেকে সরে গেছে। নীতিগতভাবে সরকারকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই বিষয়গুলোতে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা কাম্য ছিল। সরকার যেহেতু নেগেটিভ অবস্থান নিয়েছে, তাই অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া অনেককে নীতিগত অবস্থানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কাজ করতে হচ্ছে।

আইনজীবী নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার প্রাধান্য বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক এই সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা হচ্ছে, শুধু দলীয় আইনজীবী হলেই হবে না, মেধাবীও হতে হবে। রাষ্ট্রের যেন স্বার্থরক্ষা হয় সেটিও দেখতে হবে। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি খুব শিগগির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে। আগে যারা ভিন্ন ভিন্ন দল থেকে এসেছেন, তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন নাকি রিমুভ হবেন, এগুলো পর্যবেক্ষণের পর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝