ত্রিশালে এলডিডিপি প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
হারুন আর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিদের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ না করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানার বিরুদ্ধে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক উপকারভোগী এ অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদি লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি) ২০১৯ সালে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৪টি প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠন করা হয়। প্রতিটি গ্রুপে ৪০ জন করে সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শেষে ডেইরি পিজির সদস্যদের দুধ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত দুধের ক্যান, বালতি, মিল্ক টেস্টিং কিট, দুধ মাপার সেট, গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভসসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ সদস্য এসব পাননি। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রডিউসার গ্রুপের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ার-টেবিল, ঘাস কাটার মেশিন এবং দুধ দোয়ানোর মেশিনও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাছে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রশিক্ষণ চলাকালে খাবার, নাস্তা, যাতায়াত ভাতা ও সভা পরিচালনার জন্য বরাদ্দ অর্থের সুবিধা থেকেও অনেক সদস্য বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
কোনাবাড়ী ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপের সদস্য আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেও আমাকে কোনো উপকরণ দেওয়া হয়নি। একই গ্রুপের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরে কিছু সামগ্রী দেওয়া হলেও প্রকল্পে নির্ধারিত সব উপকরণ পাইনি।
হরিরামপুর ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপের সদস্য ছালমা খাতুন ও বুলবুল ইসলামও অভিযোগ করেন, তাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা আজকের দৈনিককে জানান, প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অডিটও সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিস্তারিত জানতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম আজকের দৈনিককে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রকল্পের উপকারভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আ. দৈ./কাশেম/ জাকির




















