জুলাই সনদকে নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্র জনতার ঐক্যবন্ধ আন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থান ‘জুলাই সনদকে’ অবজ্ঞা করার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে’ অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে বিএনপি জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতারা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন জুলাই চার্টার (জুলাই সনদ) একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল। আর এই সংসদে দাঁড়িয়ে তারা আবার প্রমাণ করলেন তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছেন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোট বৃথা যাবে না মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং আস্থা রাখি, ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া এই গণভোট বৃথা যাবে না। এটা বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদের ভেতরেও আওয়াজ দেবো, রাজপথেও সমান তালে আমাদের আন্দোলন চলছে। এটা আরও বেগবান হবে দিনের পর দিন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ব্যক্তিগত মান-অভিমানকে প্রাধান্য না দিয়ে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান জানানো উচিত। তিনি জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারা (বিএনপি নেতারা) বলেন- এই চারটা প্রশ্ন আমিই বুঝি না, সাধারণ জনগণ বোঝে কীভাবে? আমার প্রশ্ন হলো, চারটা প্রশ্ন যদি জনগণ না বোঝে, তাইলে ৩১টা বোঝে কীভাবে? জনগণের বিবেচনাবোধের ওপরে যারা প্রশ্ন তোলে, বুঝতে হবে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে জনগণের বিবেচনাবোধের ওপর প্রশ্ন তোলার কারও কোনো অধিকার নেই।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর কেউ শহীদ পরিবারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন উপলব্ধি করেছে, আর কেউ কেউ তখন থেকেই নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
তিনি বলেন, শহীদদের তাজা রক্ত তখনো ভাসছে, মায়ের চোখে তখনো পানি নয় রক্ত ঝরছে, সেই সময় তাদের সান্ত্বনা দেওয়া, তাদের পাশে দাঁড়ানো- এই কাজটা না করে কীভাবে কিছু রাজনৈতিক দল তখন থেকে নির্বাচনের জিকির তুলতে পারলো? কাজেই তাদের কাছে তাদের আপন সঙ্গীদের রক্তেরও কোনো মূল্য নেই।
আ. দৈ./কাশেম




















