বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা
সংকট মোকাবিলায় ৬ দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের সাম্প্রতিক অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে বিএসএফের এই বেআইনি ও একতরফা আচরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশের পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ একের পর এক পুশ ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য অসহায় মানুষ তীব্র তাপপ্রবাহ, রোদ-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে খাবার ও পানি ছাড়া নো ম্যান্স ল্যান্ডে অত্যন্ত অমানবিক ও চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং চরম নিষ্ঠুরতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তাদের মতে, জাতীয়তা বা আইনি জটিলতা যা-ই থাকুক না কেন, এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় শিশুদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো রাষ্ট্র বা বাহিনীর রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করাই সভ্য সমাজের প্রধান দায়িত্ব।
এই হৃদয়বিদারক মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংগঠনটি ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, সীমান্তে আটকে থাকা মানুষগুলোর জন্য অবিলম্বে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করে অনাহারে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু রোধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিএসএফের এই আগ্রাসী ও একপক্ষীয় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের কাছে তীব্র রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া জবাবদিহি চাইতে হবে।
তৃতীয়ত, যেকোনো নাগরিকের পুশ ব্যাক বা প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় প্রটোকল মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে জোরপূর্বক পুশ ইনের অমানবিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে ভারতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী বৈধ উপায়ে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বেসামরিক ও নিরস্ত্র মানুষের সুরক্ষায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।
পঞ্চমত, সীমান্তে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সঠিক নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি এই বেআইনি দুর্ভোগের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সবশেষে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে এই মানবিক সংকটে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং দুই দেশের বিবেকবান নাগরিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচ




















