ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও দেশে নিবন্ধিত সিম ৩২ কোটি ৮২ লাখ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাক বিভাগের সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশীদারিত্বে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ বা ‘পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট’ স্থাপনের এক অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে দ্রুত ও আধুনিক নাগরিক সেবা দেওয়ার এই রূপরেখা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের কাজও শুরু হয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক জিজ্ঞাসার জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
সংসদকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতকে আরও গতিশীল এবং সুবিন্যস্ত করতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ইতিমধ্যে ১৪টি আধুনিক ‘ফুলফিলমেন্ট সেন্টার’ গড়ে তোলা হয়েছে। এই সেন্টারগুলোর মাধ্যমে পণ্যের সংগ্রহ, যথাযথ সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং ও সর্টিং থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
জাতীয় সংসদে ডাক সেবার আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন সংক্রান্ত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে সরকারি ডাক সেবার গতি বাড়াতে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর সুফল হিসেবে বর্তমানে ভূমির নথিপত্র (ডকুমেন্টস), পাসপোর্ট বাল্ক ডেলিভারি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি গ্রাহকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে চলছে। একই সঙ্গে সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ই-কমার্স পণ্যের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সেবা চালুর প্রক্রিয়াটিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক নোটিশ ও ভিডিও মামলার নথিপত্রও এখন নিয়ম মেনে প্রাপকের ঠিকানায় ডাকযোগে সফলভাবে পাঠানো হচ্ছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের পরিধি বাড়ানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সিস্টেম’ (ডিএমএস) সফটওয়্যারের কল্যাণে এখন গ্রাহকরা যেকোনো চিঠিপত্র বা পণ্যের রিয়েল-টাইম অনলাইন ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। তাছাড়া সারা দেশে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে চিঠি ও পার্সেল বিলির পাশাপাশি এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের (ইএমএস) মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে বিদেশে পার্সেল পাঠানোর সুবিধাও সচল রয়েছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফলচাষীদের সুবিধার্থে মৌসুমি ফল নিরাপদে, দ্রুত এবং সবচেয়ে কম খরচে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহনের চমৎকার এক উদ্যোগও ডাক বিভাগ সফলভাবে পরিচালনা করছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মপরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের উপযোগিতা মানুষের জীবনে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এদিকে একই দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহিলা আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী দেশের মোবাইল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪টি বৈধ ও সক্রিয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানি তাদের নেটওয়ার্ক সেবা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষ তিন অপারেটর যথাক্রমে গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। মন্ত্রী সংসদে দৃঢ়তার সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে এই ৪টি অপারেটরের অধীনে দেশজুড়ে বৈধভাবে নিবন্ধিত ও সক্রিয় সিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩২ কোটি ৮২ লাখে।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচজ




















