রেকর্ড চাহিদার মুখে দেশের বিদ্যুৎ খাত: সংকট এড়াতে ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ আর সেচ মৌসুমের জোড়া টানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখন তুঙ্গে। বর্তমানে দৈনিক সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে। তবে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের বড় কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও শতভাগ নির্বিঘ্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মের পিক-আওয়ারে প্রাথমিক জ্বালানির সংকট, সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে মাঝেমধ্যে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। ফলে সব সময় চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
গ্রাহকদের এই ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিশেষ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অন্যতম। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জ্বালানির সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এখন জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গ্রাহকদের সচেতন করতে লিফলেট, এসএমএস ও ভিডিওর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
লোড সামাল দিতে হলি-ডে স্ট্যাগারিং, ডিমান্ড সাইড ও সাপ্লাই সাইড ম্যানেজমেন্টের মতো কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের এসি'র তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















