গাইবান্ধায় নিষিদ্ধ আ’লীগকে সংগঠিত করার তোড়জোড় সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সাখাওয়াতের
সাঘাটা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শাখাওয়াত হোসেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সবগুলোকে সক্রীয় করতে তোরজোর শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উল আজহা পরবর্তী, গত ২৯ মে (শুক্রবার) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত, তার গ্রামে নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত শাখাওয়াত হোসেন মাল্টিমিডিয়া কেজি স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে সমাবেশ করেন। যে স্কুলটি এখন বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয় জামাত নেতারা ভাড়া নিয়ে "জ্ঞানের ভুবন" নামক একটি মাদরাসা নামে পরিচালনা।
খোজ নিয়ে জানা যায়, এই শাখাওয়াত হোসেন ছিলেন ফ্যাসিস্ট আমলে, সাঘাটা-ফুলছড়ির সবথেকে সুবিধাভোগী নেতাদের কয়েকজনের মাঝে একজন। এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী ভেলু মিয়া এমপি থাকা অবস্থায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটা টেকনিক্যাল কলেজে নিজের ও স্ত্রীর চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারী প্রাইমারি স্কুলে ভাগিনা, ফায়ার সার্ভিসে ভাগিনা, ভাতিজা সহ বেশ কিছু চাকরি বাগিয়ে নেয়। এছাড়াও দুই উপেজলাতে অনেক সাধারন জনগনকে চাকরি দেবার কথা বলে প্রতারনা করেছেন, প্রতরনার কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে তার নামে।

নিজ গ্রামে ফজলে রাব্বি এমপির স্ত্রীর নামে অর্থাৎ "আনোয়ারা রাব্বি প্রতিবন্ধি স্কুলে"র নাম করে, নগদ অর্থ ও জমি মিলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চাকরি প্রত্যাশিদের কাছে। স্কুলটি নিবন্ধতিত ও এমপিও না হলে, পরবর্তীতে কয়েকজনের টাকা ফিরত দিলেও এখনো অনেকেই পাবে বলে জানা গেছে।
খুবই ধুরন্ধর প্রকৃতির এই শাখাওয়াত, সাবেক ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া মারা যাবার পর, উপনির্বাচন এবং ২৪ এর আমি-ডামির নির্বাচনে সাবেক ছাত্র লীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনের হয়ে ভুয়া ভোটের সীল মারার হাল ধরেন।
ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই সাঘাটা উপজেলার সমস্ত রাস্তার প্রায় ২০ হাজার গাছ, যা প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যমানের, তা কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়া ক্ষমতার দাপটে, কাটার জন্য মামলায় পড়েন। সেসময় এমপি রিপনকে দিয়ে ধামাচাপা দেন। অতঃপর ৫ আগষ্টের বিএনপি অফিসে হামলার কারনে মামলা হয় তার নামে। তিন মাস জেল খেটে জামিনে বেড়িয়ে এসে, ২০২৬ এর নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত আব্দুল ওয়ারেছের জন্য আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন।
সাঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের বিএনপি ঢেকাও আন্দোলন সফল হলে বিএনপির আসন টি ভরাডুবি ঘটে এবং জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পরের দিন সকালে সবার আগে ফুল নিয়ে গিয়ে দেখা করে এই ভন্ড সাখাওয়াত।

তারপর থেকেই সে অত্র জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবার ষোঘনা দেন এবং ঐ এলাকার আওয়ামিলীগকে সংগঠিত করতে জুমারবাড়ীর বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যেই তাকে মিটিং করতে দেখা যায়। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়ায় পাড়ায় প্রকাশ্যেই মিটিং করছে। সন্ধা হলেই দেখা মিলে স্থানীয় বাজিতনগর বাজার কিংবা জুমারবাড়ী বাজারে আওয়ামী লোকজনদের নিয়ে চা আড্ডায়। চা আড্ডার আড়ালে চলে গোপন পরিকল্পনা ও কাজ। কখনো কখনো সাবেক সৈরচার এমপি রিপনের সাথে জুমে কানেক্টেড হয়ে কর্মীদের উৎসাহ দেন।
তার এ কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে, মেছট গ্রামের আওয়ামী কর্মী প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম বাবু, ছারোয়ার, বাবুল। বাজিতনগর ওয়ার্ড আওয়ামী সভাপতি মোত্তালেব বাবু আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সোহেল আকন্দ, মন্জুর বেপারী, যুবলীগ সভাপতি ছদরুল সরকার (গার্লস স্কুলের শিক্ষক), ইউনিয়ন মহীলালীগ নেত্রী সাবানা বেগম (ছানারুল আকন্দের স্ত্রী), সাঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক তারা মিয়া, যুবলীগ নেতা রনি সহ অনেকেই।
শোনা যাচ্ছে, তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র যুগ্ন আহব্বায়ক, মঈন প্রধান লাবু, জামাতের এমপি এবং এনামুল মন্ডল সহ কিছু অসাধু নেতাদেরকে নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছেন তিনি।
সর্বশেষ তাকে ঈদ পরবর্তী বিশাল সমাবেশ করতে দেখে, ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ত্যাগী নেতারা সংক্ষুব্ধ হয়েছে। সাঘাটা-ফুলছড়ি গাইবান্ধা-০৫ এত ত্যাগী নেতা থাকার পরেও, প্রায় ২০০০ মানুষকে নির্বচারে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়া আওয়ামীলীগ কিভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
আ. দৈ./কাশেম




















