রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুরগির বিষ্ঠায় মাছ চাষে বাড়ছে দুরারোগ্য ব্যাধির শঙ্কা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪, ৫:০৩ পিএম   (ভিজিট : ১৬৩)
X

উপরে মুরগির খামার, নিচে চলছে মাছচাষ। সেই মুরগির বিষ্ঠা পড়ছে পানিতে, যা সরাসরি খাবার হিসেবে খাচ্ছে মাছ। এছাড়াও বিষ্ঠায় দূষিত হচ্ছে পানি, ছড়াচ্ছে উটকো দুর্গন্ধ। অ্যামোনিয়া গ্যাসের মতো বিষাক্ত উপাদানও মিশছে মাছে। এসব মাছ খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তৈরি হচ্ছে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে নিষেধাজ্ঞা আছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের। তারপরও দিন দিন এভাবে মাছচাষ বাড়ছে।

কিশোরগঞ্জের মাথিয়া এলাকার ফরুল বন্দের এ দৃশ্য কোনো পুকুরের উপরের দৃশ্য নয়। এ এলাকার কয়েকশ একর কৃষি জমিকে রূপান্তর করা হয়েছে মাছের খামারে এবং তার উপর বসানো হয়েছে মুরগির শেড। জেনে না জেনে এভাবেই মাছ চাষ করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও এখানকার মৎস্য খামারে মাছের খাবার হিসেবে এলাকার বাইরে থেকে ট্রাকে করে মুরগির বিষ্ঠা আনা হচ্ছে। রাস্তার পাশে এগুলো ফেলে রাখায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা।

জানা গেছে, ১০-১২ বছর আগেও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলী ইউনিয়নের মাথিয়া এলাকার ফরুল বন্দে ধান চাষ হতো। এখন আর ওই বন্দে ধান চাষের কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। কিশোরগঞ্জ-নিকলী সড়কের দুপাশেসহ সারা বন্দে সারি সারি চোখে পড়বে ফিশারির উপর কয়েকশত মুরগির শেড। যেখানে বছরে খামারিদের শতকোটি টাকার শুধু মাছেরই বাণিজ্য হয়। তবে এই সমস্ত চাষের মাছ নিয়ে শঙ্কিত খোদ মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা। নিষেধাজ্ঞা এসেছে এই পদ্ধতির চাষের উপর।

মুরগির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে এখানে, যা বিষ্ঠা হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করছে। এছাড়াও এখানকার মৎস্য খামারের মাছের খাবার হিসেবে গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে মুরগির বিষ্ঠা আনা হচ্ছে। রাস্তার পাশে এগুলো ফেলে রাখায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিপজ্জনক এই পদ্ধতিতে মাছের চাষ হচ্ছে এখানে। কৃষিজমি খনন করে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক মৎস্য খামার। প্রতিটি মৎস্য খামারের উপর রয়েছে মুরগির শেড। এখান থেকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে। মুরগির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে এখানে, যা বিষ্ঠা হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করছে। এছাড়াও এখানকার মৎস্য খামারের মাছের খাবার হিসেবে গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে আনা হচ্ছে মুরগির বিষ্ঠা। রাস্তার পাশে এগুলো ফেলে রাখায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

পথচারী আমেনা খাতুন জানান, এখন আর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করার কোনো উপায় নেই। মুরগির বিষ্ঠার গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। আমরা চাই রাস্তা থেকে এগুলো সরিয়ে ফেলা হোক। মইজ উদ্দিন নামের স্থানীয় একজন বলেন, ১০-১২ বছর আগেও আমাদের এই বন্দে ধান চাষ করা হতো কিন্তু এখন আর ধান চাষ করার মতো জমি নেই সব ফিশারি হয়ে গেছে। এই সকল ফিশারিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে উপরে মুরগির খামার। মুরগির লেদা খেয়েই এই মাছ বড় হচ্ছে।

 এই এলাকা দিয়ে এখন আর চলাচল করা যায় না মুরগির লেদা পানিতে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার নূরে আলমের দাবি, এখান থেকে দূর হবে দুর্গন্ধ উৎপাদিত হবে নিরাপদ মাছ। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে। স্থানীয় তরুণ হানিফ হোসেন জানান, শুনেছি এভাবে চাষের মাছ খাওয়া আমাদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এলাকায় তো এভাবেই মাছ চাষ হয়ে আসছে। এই মাছ স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষই তো এই মাছ খাচ্ছে।

জমির মালিক রাব্বি হোসেন বলেন, ধান চাষ করলে খরচ দিয়ে আমাদের পোষায় না। আমরা জমি ভাড়ায় দিয়ে দিয়েছি। নিজেদের কোনো কাজ করতে হয় না। বছরে এই জমি বাবদ আমরা ভালো টাকা পেয়ে থাকি। এভাবে মাছচাষ যে ক্ষতিকর এ বিষয়টি আমাদেরকে কেউ কোনোদিন বলেনি। মুরগির শেড ছাড়া ফিশারিতে মাছ চাষ করলে মাছের খাবার অনেক বেশি লাগে। এতে করে আমাদের পোষায় না। এভাবে মাছ চাষ করলে মুরগির বিষ্ঠা খেয়ে মাছ বড় হয় অন্য খাবার কম লাগে। তাই এই এলাকার সবাই এভাবেই মাছ চাষ করছে। একইসঙ্গে দুটি চাষ হওয়ায় খরচ কমে আর লাভ বেশি হয়। এ কারণে আরও নতুন নতুন খামারি এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছে।

ফিশারির উপরে মাছ চাষ করা খামারি হানিফ মিয়া জানান, এভাবে মাছচাষ যে ক্ষতিকর এই বিষয়টিই আমাদেরকে কেউ কোনোদিন বলেনি। মুরগির শেড ছাড়া ফিশারিতে মাছচাষ করলে মাছের খাবার অনেক বেশি লাগে। এতে করে আমাদের পোষায় না। এভাবে চাষ করলে মুরগির বিষ্ঠা খেয়ে মাছ বড় হয়, অন্য খাবার কম লাগে। তাই এই এলাকার সবাই এভাবেই মাছচাষ করছে। একইসঙ্গে দুটি চাষ হওয়ায় খরচ কম হয় লাভও বেশি থাকে। এ কারণে নতুন নতুন আরও খামারি এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে একসময় মৎস্য অধিদপ্তর পরামর্শ দিলেও পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায় এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এখন এই পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব মাছ খেয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই চাষ থেকে খামারিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন জেলা মৎস্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র পন্ডিত বলেন, মৎস্য খামারের উপর যারা মুরগির শেড তৈরি করছেন তাদের কোনো প্রকার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। এই পদ্ধতি থেকে ফিরে আসার জন্য আমরা খামারিদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।

আ. দৈনিক /কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝