অস্থিরতায় জনপ্রশাসন: ওএসডি ও বাধ্যতামূলক অবসরের আতঙ্কে কর্মকর্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্তমানে দেশের সিভিল প্রশাসনে এক অস্থির সময় পার করছেন পেশাজীবী কর্মকর্তারা। ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হওয়া এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর হিড়িক কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রশাসনের ওপরের স্তর থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই রদবদলের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে রাষ্ট্রের মেধাবী জনশক্তির অপচয় হচ্ছে বলে ওএসডি থাকা অভিমত প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা
তথ্যমতে, ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত বা ওএসডি থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা ৫ শতাধিক ছাড়িয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা ব্যবহার করে—যেখানে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে সরকারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে—বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে বিদায় করা হচ্ছে। গত এক বছরে ৯ জন সিনিয়র সচিব ও সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিতর্কিত নির্বাচনে ভূমিকার অভিযোগে ২২ জন সাবেক ডিসিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন নাগাদ আরও ৫ জন সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণে গত দুই বছরে দেড় শতাধিক কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এর মধ্যে সচিব ও সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৪ জন। ২৬ মার্চ ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী নতুন করে আরও ৫ জন সচিবকে ওএসডি করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে বড় একটি অংশই যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং উপ-সচিব পর্যায়ের।
সচিবালয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পদায়নহীন এই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা প্রতিদিন নিয়ম মেনেই অফিসে আসছেন। হাজিরা নিশ্চিত করার পর তাদের নির্দিষ্ট কোনো কাজ না থাকায় অধিকাংশ সময়ই অলস যাপন করতে হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরি এখন তাদের প্রধান মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। লাইব্রেরি সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে বসে তারা দৈনিক পত্রিকা বা বই পড়ে সময় কাটান। অনেক সময় সহকর্মীদের কক্ষে গিয়েও আড্ডা দিয়ে দিনের বাকিটা পার করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সব ওএসডি কর্মকর্তা একসঙ্গে উপস্থিত হলে লাইব্রেরিতে বসার মতো পর্যাপ্ত চেয়ারও পাওয়া যায় না।
প্রশাসনিক রদবদল, পদোন্নতি ও প্রেষণের নিয়মিত প্রক্রিয়ার চেয়ে এখন রাজনৈতিক ও শাস্তিমূলক ওএসডি-র প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের মেধাবী জনশক্তির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড এবং কর্মস্পৃহা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের এই অস্থিরতা নিরসনে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল




















