১৫ সেকেন্ডের ভিডিও, সম্মান বাঁচানোর মাশুল মোটা অংকের টাকা
ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টই প্রতারণার ফাঁদ
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

অপরিচিত কেউ ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো। আপনি যাচাই করে দেখলেন এক সুন্দরী নারীর ছবি প্রোফাইলে দেয়া। এক্সেপ্ট করুন আর নাই করুন। কিছুক্ষণ পর আপনার ইনবক্সে যোগাযোগ শুরু হলো। বলা হবে কোথা থেকে, আপনি উত্তর দিলেন, কথা চললো বেশ কিছুক্ষণ। এরপর আসল ঘটনা শুরু। হঠাৎ আপনাকে বললো হোয়াটস্যাাপে ভিডিও কলে কথা বলতে। আপনি রিসিভ করলেন-মাত্র ১৫ সেকেন্ড। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।
আপনার মোবাইলে যত নম্বর সেভ করা আছে আর ফেসবুকে যত ফ্রেন্ড আছে সবই কপি করা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ওই যে ভিডিও কল রিসিভ করেছিলেন যতক্ষণই আপনি দেখেছেন ততটুকুই যথেষ্ঠ। এবার আপনার ছবি দিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ভিডিও বানিয়ে পাঠাবে প্রতারকরা। বলবে তোমার সব বন্ধুদের কাছে এই ভিডিও পাঠানো হবে। এবার আর কি করা। বলা হবে বিকাশে টাকা পাঠাতে।
প্রতারকদের চাহিদা অনুযায়ি টাকা দিয়েও কোন সুরাহা হবেনা। বারবারই এভাবে টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করবে। এ ঘটনা নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অনেকের সংসারও ভেঙ্গে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরাও পড়ছে চক্রের সদস্যরা। তবে থামেনি প্রতারণা। শুধু নারীদের ছবি প্রোফাইলে দিয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় না। পুরুষের ছবি দিয়ে চলে একই প্রতারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) বিভিন্ন নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন বিশিষ্টব্যক্তিকে অশ্লীল ছবি, ভিডিও দিয়ে কু-প্রস্তাব দেওয়া ও ব্লাকমেইল করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অজান্তেই অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য চুরি করে হুবহু একই রকম অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন অনেকে। একে বলা হয় ‘ফেসবুক আইডি ক্লোন’। সাধারণত খ্যাতিমান শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রোফাইল এভাবে ক্লোন করে অসামাজিক, অনৈতিক কাজ করে থাকে জালিয়াতকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনব এই জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষও।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফেসবুক ক্লোন হল প্রতারকদের কাছে জালিয়াতির এক নতুন উপায়। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন এমন ব্যক্তিদের শিকার বানায় এরা। তার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে হুবহু একই রকম অন্য একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলা হয়। সেখান থেকে ব্যক্তির চেনা পরিচিতদের পাঠানো হয় ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ তা ‘অ্যাকসেপ্ট’ হলেই শুরু হয়ে যায় জালিয়াতি। অপরাধীরা অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, ই-মেইল বা অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের পাসওয়ার্ডও চুরি করতে পারে। এরপর পরিচিতদের সঙ্গে শুরু হয় জালিয়াতি। এই ধরনের অপরাধ চক্রের ফাঁদ এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভয় না পেয়ে প্রথমেই বিষয়টি পরিচিতদের জানাতে হবে। বন্ধু, আত্মীয়দের সতর্ক করে দিতে হবে যাতে তারা ওই ধরনের কোনও ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ ‘অ্যাকসেপ্ট’ না করে।
এছাড়া পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের আসল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করতে পারেন। সেই পোস্ট যাতে সকলের নজরে পড়ে তার জন্য মন্তব্য করার বক্সে ‘অ্যাট হাইলাইট’ বা ‘অ্যাট ফলোয়ার’ লিখে রাখতে পারেন। এছাড়া পরিচিতদের কাছে বলতে হবে যেন ক্লোন অ্যাকাউন্টটি দেখলেই রিপোর্ট করে।
যেভাবে ভুয়া অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করতে পারবেন : ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে গিয়ে সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুঁজে ফেসবুক পেজে যান। সেখানে প্রোফাইলের এক পাশে নাম, ছবির উল্টো দিকে একটু নিচে রয়েছে ৩টি ‘ডট’ চিহ্ন। সেখানে ক্লিক করলেই আসবে ‘রিপোর্ট প্রোফাইল’ অপশন। এরপর ফেসবুক জানতে চাইবে কেন ওই প্রোফাইল আপনি রিপোর্ট করতে চান।
আসবে কারণের তালিকা। সঠিক কারণে ক্লিক করলেই ভয়া অ্যাকাউন্টের রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতায় বলা হচ্ছে- অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ না করা। অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ও তথ্য কাউকে না পাঠানো। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি থেকে আসা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অথবা মেসেজ রিকোয়েস্ট এড়িয়ে যেতে হবে।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু




















