রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজপথ-সংসদে সরব ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত
যুগপৎ আন্দোলনের কৌশলে সক্রিয় হচ্ছে জামায়াত
বিশেষ প্রতিনিধি॥
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম   (ভিজিট : ৬৪)
X

সংসদের ভেতরে সরব উপস্থিতি এবং রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা দলটি এখন শুধু সংসদীয় বিতর্ক বা প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং জনজীবনের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে সরকারকে রাজনৈতিক চাপে রাখার পরিকল্পনা করছে তারা। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংসদ ও রাজপথ দুই ক্ষেত্রেই সমন্বিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে জামায়াত।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী রাজনীতিতে নতুন জায়গা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতির পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগও এখন কাজে লাগাতে চায় দলটি। এ কারণে একদিকে সংসদে সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, অন্যদিকে মাঠে গণসংযোগ ও সমাবেশ দুই ধারার রাজনীতি একসঙ্গে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, অতীতে বিরোধী দলগুলোর অনেকেই সংসদ বর্জনের রাজনীতি করেছে। কিন্তু তারা সেই পথ এড়িয়ে সংসদে থেকে জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরতে চায়। একই সঙ্গে সংসদের বাইরেও রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দলটির দাবি, এতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারবিরোধী অবস্থানও আরও দৃশ্যমান হবে। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সম্প্রতি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাকে এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছে জামায়াত। তাঁর ভাষ্য, সরকার গণভোটে পাস হওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখাচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু আন্দোলন করা নয়, সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি দাবি করেন, সংসদে দলটি ইতোমধ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা থাকবে। অন্যদিকে দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম জানিয়েছেন, মাঠের আন্দোলন আরও বিস্তৃত করতে কয়েক মাসব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মে থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধারাবাহিক সমাবেশ করবে জামায়াত ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা। পরে রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, বিভাগীয় সমাবেশগুলোর লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়; বরং সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোও। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরতে চায় দলটি। ইতোমধ্যে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে সমাবেশ করবে জামায়াত। এসব সমাবেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এসব ইস্যু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় জনসমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত এখন নিজেদের কেবল একটি আদর্শিক বা আন্দোলনভিত্তিক দল হিসেবে নয়, বরং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। সংসদে উপস্থিতি, ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ সবকিছু মিলিয়ে দলটি একটি ‘পূর্ণাঙ্গ বিরোধী রাজনৈতিক কাঠামো’ দাঁড় করানোর পথে এগোচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জামায়াতের ঘোষিত ছায়া মন্ত্রিসভার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনের পর এটি প্রকাশ করা হতে পারে। ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিভিন্ন খাত নিয়ে বিকল্প নীতি ও প্রস্তাব তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি প্রশাসনিক সক্ষমতার বার্তাও দেয়া সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছায়া মন্ত্রিসভা খুব একটা প্রচলিত নয়। ফলে জামায়াত যদি এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু কর্মসূচি ঘোষণা নয়, বাস্তবভিত্তিক নীতিগত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জামায়াতের এসব কর্মসূচিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের দাবি, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিরোধী দলগুলো এখন বিভিন্ন ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। যদিও বিরোধী শিবির বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাই মানুষকে সরকারবিরোধী অবস্থানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আগামী কয়েক মাস দেশের রাজনীতিতে মাঠের কর্মসূচি বাড়তে পারে। সংসদের ভেতরে বিতর্কের পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিও সক্রিয় থাকবে। এ অবস্থায় বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত কতটা জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারে এবং সরকারের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, সেটিই হবে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

আ. দৈ./কাশেম/ এস রহমান


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝