হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণে স্টেকহোল্ডার সেমিনার
ফটিকছড়ি, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটাভিত্তিক প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদী সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের আওতাধীন ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো:নাজমুল হাসান।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, হালদা নদী শুধু চট্টগ্রামের নয়, পুরো দেশের জন্য একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মা মাছ রক্ষা এবং ডিম সংগ্রহ ব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রশাসন, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আকতার এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান।
বক্তারা বলেন, হালদা নদীকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী হাজারো মৎস্যজীবীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এহসান শামীম, উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি সুনীল মাস্টারসহ প্রকল্পের সুফলভোগী মৎস্যজীবীরা।
সভায় মৎস্যজীবী প্রতিনিধি সুনীল মাস্টার সরকার ঘোষিত মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য নিয়মিত ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানান। তিনি বলেন, বন্ধ মৌসুমে বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেক জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করে। সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নদী সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
সেমিনারে আলোচকরা হালদা নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ, মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, নদীতীরবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আ. দৈ./কাশেম/ জাকির




















