রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাপাসিয়ায় কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ, চত্বরে কাঠের স্তূপ
আসাদুল্লাহ মাসুম,গাজীপুর
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম  আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ৬:৪৩ পিএম  (ভিজিট : ১৪১)
X

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আমরাইদ এলাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের হাজার হাজার কৃষক ও খামারি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রটির অফিস ভবন, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য অবকাঠামো দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অবহেলায় পড়ে থাকায় পুরো কেন্দ্রটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় খামারিরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে গ্রাম্য পশু চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আমরাইদ এলাকার খামারি জাকির হোসেন বলেন, সরকারি কেন্দ্র থাকলেও কোনো সেবা পাই না। গরুর প্রজননের জন্য এখন গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয়, এতে খরচ অনেক বেশি পড়ে।

খামারি আবু হানিফা বলেন, আগে এখানে কম খরচে ভালো সেবা পাওয়া যেত। এখন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।

কেন্দ্রটির ভেতরে গরুর প্রজননের জন্য ব্যবহৃত নিয়ন্ত্রণ খাঁচা মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের টিনের চালা খুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। চারপাশে ঘাস ও ঝোপঝাড় জন্মে পরিবেশটি অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইউনিয়ন হাইলজুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এম এ হান্নান বলেন, “একসময় আমরা এখান থেকে সহজেই পশু চিকিৎসা ও প্রজনন সেবা পেতাম। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।”

কৃষক গোলাম মস্তফা বলেন, “উন্নত জাতের গরু উৎপাদনের জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি বন্ধ থাকায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি।”

প্রশাসনিকভাবে কেন্দ্রটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এমকেএম আতিকুর রহমান আজকের দৈনিককে বলেন, “কেন্দ্রটির স্থাপনা অকার্যকর হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন যাবত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখানে একজন প্রজনন কর্মী থাকলেও তার বেতন ভাতা নিয়মিত নয়। ইতোমধ্যে কেন্দ্রটি মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করা হবে।”

প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আমরাইদ এলাকা গবাদিপশু পালন ও বেচাকেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র অচল থাকায় উন্নত জাতের বাছুর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি দুধ ও মাংস উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় খামারি ও সচেতন মহল দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হলে কেন্দ্রটি আবারও এলাকার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আ. দৈ./কাশেম/ জাকির


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝