
অস্ট্রেলিয়া কি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জরায়ু ক্যানসার নির্মূল করতে পারবে—এ প্রশ্ন এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ক্যানসারকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকাদান কর্মসূচি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে জরায়ু ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে নতুন রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
একজন রোগী ক্রিসি ওয়াল্টার্সের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রোগ কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনকে কঠিন করে তোলে। তিনি জানান, দীর্ঘ চিকিৎসার পরও রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য পর্যায়ে নেই।
অস্ট্রেলিয়া ২০০৭ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করে, যা পরে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়। ১২–১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে গেছে।
গবেষকদের মতে, প্রতি ১ লাখ নারীর মধ্যে নতুন রোগীর সংখ্যা ৪ জনের নিচে নামিয়ে আনতে পারলে ক্যানসারটিকে “নির্মূল” হিসেবে ধরা হয়। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বর্তমানে দেশটিতে প্রতি ১ লাখ নারীর মধ্যে প্রায় ৬ জনের মতো নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, যা বিশ্বে সবচেয়ে কম হারগুলোর একটি। তবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা গ্রহণের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান গতি বজায় থাকলে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই ইতিহাস গড়তে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে এই অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকেরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও ক্যানসার প্রতিরোধে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
আ.দৈ./ এম.এস




















