ফরিদপুরের গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে অমানবিক নির্যাতন, উদ্ধার করেছে পুলিশ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার সাকরাইল গ্রামের খোরশেদ মাতবরের ছেলে শামুন মাতবরের (২৮) সঙ্গে মো. জালাল কাজীর মেয়ে রিতু আক্তারের (২০) বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় রিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে রিতুর বাবা-মা মেয়ের খোঁজ নিতে সাকরাইল গ্রামে যান। সেখানে তারা ঘরের ভেতর রিতুকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তারা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শামুন মাতুব্বর (২৮), লিপি আক্তার (৪০), নিপা আক্তার (৩২) ও খোরশেদ মাতুব্বর (৫৮) তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় রিতুর বাবা জালাল কাজী (৪৩) ও মা লাইজু আক্তার (৩৩) গুরুতর আহত হন।
হামলার খবর নগরকান্দা থানায় জানানো হলে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিকলবন্দি অবস্থায় রিতু আক্তারকে উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তের পিতা খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করা হয়। পুলিশ আসার খবর পেয়ে প্রধান অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।
আহত রিতু আক্তার ও তার বাবা-মাকে উদ্ধার করে দ্রুত নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নির্যাতনের সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।" স্থানীয়রা এই বর্বরোচিত নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আ. দৈ./কাশেম




















