রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অধিবেশন ডাকার জোর দাবি শিশির মনিরের
নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৮৮)
X

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির  জনগণের দেওয়া গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার সভার (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন ডাকার জোর দাবি জানিয়েছেন ।  শিশির মনির সতর্ক করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা না হলে দেশ এক নতুন ধরনের সাংবিধানিক জটিলতা এবং আস্থার সংকটে নিপতিত হবে। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সেমিনারে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পার্লামেন্টকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ-এই দুই ভাগে বিভক্ত করতে হবে, যেখানে উচ্চকক্ষ ১০০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হওয়ার কথা। উচ্চকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন পাবে। 

শিশির মনির উল্লেখ করেন, তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছেন এবং বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ নেই যেখানে গণভোটের রায় সরকার মেনে নেয়নি। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন না করা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, কোনো বিপ্লব বা অভ্যুত্থান কখনো সংবিধান মেনে হয় না, বরং এটি সংবিধানের বাইরে থেকে সংগঠিত হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক বিষয়কে এখন আদালতের বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। 

আগামী ১৯ এপ্রিল আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিচার বিভাগের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে জনগণের রায়ের পক্ষ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া উচিত হবে।

রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আদালতে খোঁজার সমালোচনা করে এই আইনজীবী বলেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকে আদালতে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করার ফলে দেশে দীর্ঘ ১৭ বছর অস্থিরতা ও সহিংসতা বিরাজ করেছিল। এখন আবার আদালতই বলছেন এটি সাংবিধানিক। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। ওপরের দিকে চেয়ে থুতু ফেললে তা নিজের গায়েই পড়ে মন্তব্য করে তিনি সরকারকে ভবিষ্যতের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝