ডিএনসিসিতে ৫৯৯ কেন্দ্রে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি অঞ্চলে মোট ৫৯৯ কেন্দ্রে আজ রোববার থেকে “জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬” শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের হাম-রুবেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন শিশুদের প্রাণঘাতি ‘হাম-রুবেলা’প্রতিরোধে আজ রোববার,১২ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ মে পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ শিশুকে ‘টিকাদান ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ রোববার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন। তিনি আরো জানান,আজ সকালে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই ডিএনসিসি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিসেফের ইম্যুনাইজেশনের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষনা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জুলকার নায়ন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মাহমুদা আলী, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আজিজুন নেছা ও সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই এই টিকা প্রদান করতে হবে। তিনি জানান, প্রথমে দেশের ১৭টি উপজেলায় এবং পরবর্তীতে ৪টি সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালকে একটি জেনারেল হাসপাতালে রুপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নগরবাসীকে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যায়।
উল্লেখ্য, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ৫৪টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং ৫০২টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৫টি ইভিনিং সেন্টার ও ৮টি ফ্রাইডে সেন্টারের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে মোট ৫৯৪ জন টিকাদানকর্মী, ৬৫০ জন ভলান্টিয়ার এবং ২০৩ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির সকল অভিভাবকদেরকে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে ‘হাম-রুবেলা’ প্রতিরোধী টিকা প্রদানে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম




















