রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ এএম  আপডেট: ১১.০৪.২০২৬ ১০:৩১ এএম  (ভিজিট : ৩৪)
X

পৃথিবীর বাইরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে মানুষের যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়া নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের মহাকাশযান ওরিয়নে থাকা নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের অভিযান শেষে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে) তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।  সে সময়ে এই মুহূর্তটি উদযাপন করতে কলাম্বিয়া মেমোরিয়াল স্পেস সেন্টারে যারা জমায়েত হয়েছিলেন তারা ‘আর্টেমিস’ শ্লোগান ও চিৎকার দিয়ে উল্লাস করেছেন।

এর মাধ্যমে ওরিয়ন নভোযানটি চার নভোচারীসহ পৃথিবী থেকে চাঁদে যাওয়া ও আসার যাত্রায় মোট ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল পথ পাড়ি দিলো।  এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন।  ওই সময় তারা পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে) সফর শুরু করেছিল ওই মহাকাশযান।  ওরিয়ন নভোযানটি সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে এসে আঘাত করেছে এবং নভোচারীরা সবাই বেঁচে আছেন।

ঘণ্টায় ২০ মাইল শুনতে সহনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। পানি সংকুচিত হয় না। যখন ওরিয়ন পানির উপরিভাগে আঘাত করে তখন এর ধাক্কাটা ছিল তীক্ষ্ণ ও কঠিন।  এমন অভিজ্ঞতা এর আগে যেসব মহাকাশচারীর হয়েছে তাদের মতে পানিকে তখন নরম নয়, বরং শক্ত দেয়ালের মতো অনুভূত হয়।

এরপর ক্যাপসুলটি সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলতে থাকে আর দশ দিন ধরে মাইক্রোগ্রাভিটিতে থাকা নভোচারীরা তখন প্রতিটি নড়াচড়াকে অস্বাভাবিক তীব্রভাবে অনুভব করেন।  ক্যাপসুলের নিচের অংশে থাকা পাঁচটি কমলা রঙের এয়ারব্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়েছে, যা ওরিয়নকে সোজা ও স্থিতিশীল রাখছে। উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ বহু বছরের পরীক্ষা এবং আর্টেমিস-১ এর দুটি রিকভারি মহড়ার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে।

নভোযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে একজন মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করেন যে নভোচারীরা ভালো (গ্রীণ) আছেন। গ্রীণ বলতে এখানে ত্বকের রং নয়, বরং বোঝানো হচ্ছে যে তারা দারুণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

এর কিছুক্ষণ পরই ওরিয়ন নভোযান থেকে নভোচারীরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। এসময় সেখানে উদ্ধারকর্মীদের নৌকাগুলোকে দেখা গেছে। হিউস্টনে কন্ট্রোল রুমে এসময় সবাই হাততালি দিচ্ছিলেন। তিনজন নভোচারী বেরিয়ে আসার পর অভিযানের দলনেতা বা কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান বেরিয়ে আসেন।

এরপর তাদের হেলিকপ্টারে করে জন পি মুর্থা যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়। প্রথম হেলিকপ্টারে ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভারকে নিয়ে সেখানে নিয়ে আসা হয়। এই জাহাজটিতে হেলপ্যাড ছাড়া চিকিৎসা সুবিধা সক্ষমতা আছে। চার নভোচারীকে সেখানে আনার পর তাদের পালস, ব্লাড প্রেশার, মস্তিষ্ক ও নার্ভ সিস্টেম ও ভারসাম্য পরীক্ষা করা হয়।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝