সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার- ১
নিজস্ব প্রতিবেদক :

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির সাইবার ইউনিটের ‘এসআই ইকবাল হোসেন’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা,লোকজনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্রতারকের কাছ থেকে এসব অপরাধে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন সেট এবং ৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। ওই প্রতারকের নাম- রিপন মিয়া (২৪)। গণমাধ্যমকে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। তিনি জানান গতকাল বুধবার দিবাগ রাতে আশুলিয়া থানাধীন নিরিবিলি এলাকার ফাল্গুনী হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, গত ৭ জানুয়ারি একজন ভুক্তভোগী রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় তার ব্যবহৃত একটি iPhone-15 মডেলের মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য তিনি ‘Cyber Crime Helpline’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আইডি থেকে তাকে একটি WhatsApp নম্বর দেওয়া হয়।
সিআইডির বিশেষ এই পুলিশ সুপার বলেন, সেখানে যোগাযোগ করলে প্রতারক নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই ইকবাল হোসেন পরিচয় দিয়ে মোবাইল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এক পর্যায়ে প্রতারক মোবাইল উদ্ধার বাবদ ভিকটিমের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা একটি মামলা করেন। মামলার পরপরই সিপিসি, সিআইডি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, একই কৌশল অবলম্বন করে প্রতারক চক্র অন্য এক ভিকটিমের কাছ থেকেও ৭২ হাজার ৭০০টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
জানা যায়, গ্রেফতার আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে সিআইডি পুলিশের সদস্য (এসআই ইকবাল, এসআই আরমান ইত্যাদি) পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হারানো মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। বর্ণিত মামলা ছাড়াও সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আ. দৈ./কাশেম




















