জুলাই সনদ সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার দেখতে চান শহিদুল আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের শিকার দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফটো সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল আলম বলেছেন, ‘আমি জুলাই সনদ বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার দেখতে চাই’। তিনি বলেন, ‘দেশে এখনো বহু সমস্যা বিদ্যমান এবং সেগুলো সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হবে। আমি মনে করি, জুলাই সনদ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং জুলাই সনদ দেশকে মেরামত করতে চায়। এ কারণই আমরা আসছি’।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি, সরকারের দায় ও জবাবদিহি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল আলম। এই সেমিনারটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শহিদুল আলম বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমার দ্বিমত আছে। সব ক্ষেত্রে আমি একমত না। তবুও এ সনদ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ সনদ নিয়ে কথা বলতে গেলে, আমি জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করি। তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করি। তাদের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের সালাম জানাই।’
আলোকচিত্রী ও প্রতিবাদী শহিদুল আলম বলেন, ‘এ যুদ্ধ কিন্তু শুধু ২০২৪ এ হয়নি। তারও অনেক আগে থেকে হয়েছে। এখানে অনেকে আছেন, তারা অনেক আগে থেকেই কিন্তু লড়াই করে যাচ্ছেন। সেই লড়াইয়ের ফলেই কিন্তু আমরা এ জায়গায় আসতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যেই ধরনের দেশ পেতে চাই, এতগুলো মানুষ রক্ত দিয়েছে, রক্তস্নাত যেই জুলাইয়ের মাধ্যমে জুলাই সনদ পেয়েছি। তবে কিছু বিষয়ের দ্বিমতের কারণে আমরা সেটাকে উপেক্ষা করবো, তা হতে পারে না। যুক্তি ও দ্বিমত থাকতেই পারে এবং সেটাই হওয়া উচিত। সংসদ একদলের আধিপত্য আছে বলে সবকিছু নিরঙ্কুশভাবে গ্রহণ করতে হবে, তা যদি হয়, তাহলে সংসদের প্রয়োজন নেই। সংসদে দ্বিমত হবে, তর্ক হবে।’
চলমান জাতীয় সংসদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে যে যার মতো মতামত দেবে, একজন আরেক জনকে যুক্তি দেবে। যুক্তির কারণে আমি আমার মত বদলাবো; সেই সংস্কৃতিই হওয়া উচিত। সত্যিকার অর্থে আমরা একটা ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই, সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চলতে চাই। তাই জনগণের স্বার্থে যেটা হবে, সেটাই প্রত্যেকের গ্রহণ করা উচিত। ব্যক্তি স্বার্থকে ভুলে দেশের স্বার্থ নিয়ে লড়াই উচিত’।
আ. দৈ./কাশেম




















