নগরকান্দায় ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি হাইস্কুল মাঠে কর্মসূচির আয়োজন করে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে প্রয়াত এই বরেণ্য নেতার জীবনী ও রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন গণতন্ত্রের একজন আপসহীন নেতা, যিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। স্মরণসভায় জেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
তিনি বলেন,, আল্লাহ তায়ালা তাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তিনি আজীবন মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান। তবে এই সেবামূলক কাজে কেউ বাধা দিলে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, গত রমজান মাসে প্রতি শুক্রবার আমি আপনাদের পাশে ছিলাম। আগেও বলেছি, এখনও বলছি নির্বাচনের পর আমাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারেনি। মানুষের যেখানে সমস্যা, সেখানেই আমি ছুটে গেছি। আপনাদের যে কোনো সমস্যা জানতে পারলে ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা সমাধান করব।
বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থেকেছেন। তিনি সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে তিনি জাগো দল এবং পরে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার অবর্তমানে গত ১৭ বছর ধরে আমি জনগণের সেবা করে যাচ্ছি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা নিজেদের ওবায়দুর রহমানের সৈনিক দাবি করেন, তারা সত্যিই তার আদর্শ ধারণ করছেন কিনা সেটা নিজেদের কাছে প্রশ্ন করুন।
তিনি আরও বলেন, মঞ্চে উঠে একে অপরের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করা কঠিন। বক্তৃতার চেয়ে সংগঠন গোছানো এবং জনগণের পাশে থাকা বেশি জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক কাজ শুরু হয়েছে। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন দুর্নীতি বা অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার উন্নয়নে দ্রুত কাজ শুরু হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তা, ব্রিজ, মসজিদ ও মন্দিরের প্রয়োজনীয়তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন,“আমি একটি মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সালথা-নগরকান্দা গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নেতৃত্ব চিরস্থায়ী নয়। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে না পারলে অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে চাই। এজন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও সাংগঠনিক দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে।
নেতা কর্মীরা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কে এম ওবায়দুর রহমানের মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করেই আগামী দিনের পথচলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
আ. দৈ./কাশেম




















