রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাংক ম্যানেজার ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নারী চিকিৎসকের মামলা (ভিডিও)
নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম   (ভিজিট : ৫০০)
X

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম পরিপালন করতে গিয়ে আসামীর কাঠগড়ায় দাড়িয়েছেন রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষীবাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। তুচ্ছ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের এমডি বরাবর নিজের শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়া খানম। 

তবে ব্যাংকের তদন্ত ও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডা. শাহরিয়ারের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমানিত হয়। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং সবার সামনে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায়। এ ঘটনা আড়াল করতে উল্টো ব্যাংক ম্যানেজার ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মানহানি মামলা করেন ডা. শাহরিয়া। 

জানা গেছে, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতবছর ১১ নভেম্বর দায়েরকৃত সিআর মামলাটির (৩৭৫/২৫) তদন্তভার দেয়া হয় সুত্রাপুর থানা পুলিশকে। গত ৫ মার্চ মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে পুলিশ। প্রতিবেদনজুড়ে প্রকৃত ঘটনার সঠিক উপস্থাপন থাকলেও শেষে সমন্ময়হীনভাবে উল্টো মতামত প্রাদান করা হয়েছে। যাতে একই তদন্তের দ্বিমুখী বা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিদ্যমান।

পুলিশের তদন্ত ও সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবদন এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জনা যায়, ঘটনার শুরু গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর দুপরে রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষী বাজার শাখায়। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া খানম অপর একজনের একাউন্টে ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে আসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে জানান, ৫০ হাজার টাকার বেশি কোনো হিসাবে পাঠাতে প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেয়ার বিধান বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু ডা. শাহরিয়া খানম পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা পঠাতে চাপ দেন ওই কর্মকর্তাকে। 

এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমন বিষয়টি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে ডা. শাহরিয়া উত্তজিত হয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল করে তোলেন। তার টাকা জমা নিতেই হবে বলে তিনি প্রভাবশালীদের নাম করে ভয়ভীতি দেখান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রভাশালীদের কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে ধরিয়ে দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত একাধিক গ্রাহক ডাঃ শাহরিয়াকে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন। একপর্যায়ে ম্যানেজারের কক্ষে তাকে অরুদ্ধ করেন ডা. শাহরিয়া এবং জোর করেন জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা জমা নিতে। এসময় দরজার সামনে দাড়িয়ে ম্যানেজারকে কক্ষ থেকে বের হতে বাধা দেন। তখন সেলিম মিয়া নামে এক গ্রাহক দরজা খুলে অবরুদ্ধ ম্যানেজারকে বের করে আনেন। 


অথচ এই ঘটনাকেই নিজের শ্লীলতাহানি বলে ডা. শাহরিয়া লিখিত অভিযোগ দেন সোনালী ব্যাংক এমডি বরাবর। এতে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিতর্কের মুখে পড়েন ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। 

এদিকে ঘটনাটি অনুসন্ধান করে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রফেশনাল প্রোফাইলে প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)। ঘটনার ১৬ দিন পর প্রকাশিত ডকুমেন্টারিতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে চলে এলে ভুক্তভোগী ম্যানেজার সুমন নিজের সম্মান ফিরে পান এবং প্রথম ধাক্কায় কিছুটা রক্ষা মেলে।

একইসঙ্গে ব্যাংকের এমডির নির্দেশে দ্রুত কাজ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত দল। এ তদন্ত প্রতিবেদনেও শ্লীলতাহানির অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যাংকের তদন্ত চলাকালে ডা. শাহরিয়া সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলেও আভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় প্রভাব দেখিয়ে ডা. শাহরিয়া যাদের দিয়ে ম্যানেজারকে হুমকি দিয়েছেন তারা হলেন সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এসপিও মোহাম্মদ ইউসুফ দেওয়ান এবং ডিজিএম মো. গোলাম হাসান। পরবর্তীতে তাদের চাপেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ভেঙ্গে টাকা জমা নিতে বাধ্য হন শাখার ম্যানেজার। ডা. শাহরিয়ারের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে দিনের ব্যস্ত সময়ে শাখার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কর্যক্রম প্রায় ৩০ মিনিট অচলাবস্থার মুখে পড়ে।   

এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় আদালতে মানহানীর মামলা করেন ডাঃ শাহরিয়া, তার বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে। অপরদিকে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে প্রকৃত ঘটনার সঠিক চিত্র। পুলিশ বলেছে একজন ভুক্তভোগী ব্যাংকারকে রক্ষার জন্য সাংবাদিক পেশাগত কারনে ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন। সেদিন কি কি হয়েছে ঘটনাস্থলে এবং কেন হয়েছে তাও পুলিশের প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে দীর্ঘ বর্ননায় তদন্তের মতামতে এসে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা উল্টে গেছে। প্রতিবেদনে একাধিকবার পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ও ব্যাংকারের মধ্যে কোনো যোগসাজশের মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের প্রমান পাওয়া যায়নি। আবার শেষে বলা হয়েছে, বাদিনীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতিয়মান। 

সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ডা. শাহরিয়া শেষ পর্যন্ত প্রভাব খাটিয়ে ম্যানেজারকে টাকা জমা নিতে বাধ্য করেছেন, সেহেতু তিনিই তো জিতেছিলেন। তুচ্ছ ঘটনাটি সেখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু তিনি থেমে না গিয়ে নারীর সবচেয়ে চুড়ান্ত অস্ত্র শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলেন। 

তখন ঘটনার ভিডিও পাবলিক না হলে শুরুতেই ম্যানেজারের বড় ক্ষতি হয়ে যেতো। এ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ মোকাবেলায় বর্তমানে হিমসিম খাচ্ছেন ভুক্তভোগী ম্যানেজার সুমন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে টাকা জমা নিতে চাওয়াই এখন তার কাল হলো। ডা. শাহরিয়া শুরুতে এমডির কাছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দিলেও পরে আদালতে মামলা করছেন মানহানীর। যা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। 
 
শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ, ম্যানেজারকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ৩০ মিনিট শাখা প্রায় অচল করে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. শাহরিয়া বলেন, পুরো ঘটনাই মিথ্যা, তাকে হেয় করতে এটা করা হয়েছে। ব্যাংক ম্যানেজার সাংবাদিককে দিয়ে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ম্যানেজারের সাজানো লোক দিয়ে তার বিরুদ্ধে ওই ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। তার কোন মন্তব্য নেয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শাহরিয়া।


 আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝