সংগ্রাম পেরিয়ে চিকিৎসক ও উদ্যোক্তা ডা. সৈয়দা সামিনা মাহজাবিন
ডা. সৈয়দা সামিনা মাহজাবিন

পড়ার স্বপ্ন ছিল চারুকলায়। রং-তুলি আর ক্যানভাসেই নিজের ভবিষ্যৎ দেখতেন তিনি। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল মেয়ে চিকিৎসক হবেন। পরিবারের সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ভর্তি হন মেডিকেলে।
ভর্তি পরীক্ষার পরপরই বিয়ে হওয়ায় নতুন সংসার ও কঠিন মেডিকেল পড়াশোনা একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে শুরুটা সহজ ছিল না। মেডিকেলের প্রতি ভয় ও মানসিক চাপের কারণে প্রথম প্রফে ভালো করতে পারেননি এবং সহপাঠীদের থেকে পিছিয়ে পড়তে হয় তাকে। পরে জুনিয়রদের সঙ্গে আবার নতুন করে শুরু করেন পড়াশোনা।
ফাইনাল প্রফের সময় কনসিভ করায় এবং শারীরিক জটিলতা থাকায় তিনি সেই পরীক্ষায় বসতে পারেননি। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মাত্র ১২ দিনের শিশুকে কোলে নিয়েই আবার শুরু করেন নিজের লড়াই। অদম্য মনোবল ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করেন এমবিবিএস।
এই সংগ্রামী নারীর নাম ডা. সৈয়দা সামিনা মাহজাবিন। বর্তমানে তিনি আসগর আলি হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন উদ্যোক্তাও। মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালে ত্বক ও চুলের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন Skinologic Laser & Aesthetic Center।
শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নয়, তিনি একজন শিল্পী হিসেবেও পরিচিত। অবসর সময়ে ছবি আঁকেন এবং সেই আর্ট থেকে পাওয়া অর্থ বিশেষ শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ জন স্টাফ কাজ করছেন। কম খরচে আধুনিক লেজার চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাকে সহজলভ্য করে তুলছেন তিনি। নারী দিবসে তার এই সংগ্রামী পথচলা অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আ.দৈ/আরএস




















