রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীতে শুক্রবারও ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
X

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ছুটির দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরীবাগ স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের কয়েক দফা তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি করতে দেখা গেছে।  পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার সময় ভিড় দেখা যায়।

এই স্টেশনের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে হয়ে শাহবাগ মেট্রোরেলের নিচ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এই লাইনের কারণে ছুটির দিনেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে এই সড়কে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে তর্কবিতর্ক করতে দেখা যায়। কে কার আগে যাবেন—এ নিয়ে কেউ কেউ হাতাহাতি করেন।

দীর্ঘ ৫০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়েছেন উবার চালক নাজমুল হাসান। তিনি শাহবাগ মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচ থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান। প্রায় ৫০ মিনিট পর তেল নিতে পেরেছেন। এ সময়ে দু–তিনটি ভাড়া পেতেন বলে জানান এই চালক। বলেন, প্রতিদিন  ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। অন্যদের অল্প হলেও চলে, কিন্তু এই তেল ছাড়া তাঁদের চলবে না।

দু-এক দিনের মধ্যে তেল শেষ হয়ে গেলে কী হবে, সেটি নিয়েও চিন্তিত এই মোটরসাইকেল চালক। কারণ, এই উবার চালিয়ে চলে তাঁর সংসার।  তবে এই ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আহমেদ রুশদ বলেন, তাঁদের তেলের মজুতের কোনো ঘাটতি নেই। ক্রেতারা যে রকম চাইছেন, সে রকম তেল দিচ্ছেন তাঁরা। মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হলেও ফিলিং স্টেশনে সবকিছু ঠিকঠাক আছে বলে জানান তিনি।

দৈনিক বাংলা মোড়ে বিনিময় ফিলিং স্টেশনে বেলা ১১টার সময় দেখা যায়, প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেল দেওয়ার আগে এই স্টেশনের কর্মচারী মো. সাহেদ উদ্দিন বলে দিচ্ছেন বাইকে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হবে না। 

এই স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসেন সজীব রহমান। তিনিগণমাধ্যমকে জানান, তিনি ফরিদপুরের বাড়িতে যাবেন। সে জন্য কমপক্ষে তাঁর ৪ লিটার তেল প্রয়োজন। কিন্তু স্টেশনে আসার পর দেখেন তাঁকে ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না।  ক্ষোভ জানিয়ে এই চালক বলেন, ‘আমরা সাধারণ পাবলিক, আমাদের তেল দেওয়া যাবে না; অথচ যারা সরকারি জব করে, তারা তেল পায় কী করে? তারা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে।’

বিনিময় সার্ভিসিং সেন্টার ও ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী  বলেন, তাঁদের তেলের মজুত কম। এ জন্য তাঁরা অল্প অল্প করে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।  

রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের পাশে করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সাধারণত এই স্টেশনে ছুটির দিনেও এত লম্বা লাইন থাকে না বলে জানান স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সোহাগ। তিনি বলেন, ডিপো থেকে আগের তুলনায় তেল কম আসছে। যাঁরা আগে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার তেল নিতেন, তাঁরা এখন ফুল ট্যাংক তেল নিচ্ছেন। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁরা তেল দিচ্ছেন বলে জানান।

এই স্টেশনে তেল নিতে আসেন মো. মামুন হোসেন। তিনি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। মামুন বলেন, তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি এখানে তেল নিতে এসেছেন। অন্য স্টেশনগুলোয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। তাই এখানে এসে ট্যাংক ফুল করে তেল নিয়েছেন।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে তেল দিচ্ছে না রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন। সকাল সাড়ে ১০টায় এই স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কেবল অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের গাড়ি, সরকারি গাড়ি, একবারে তেল শেষ হয়ে আসা বিপদে পড়া কিছু গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এই ফিলিং স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণত শুক্র-শনিবার তাঁদের এই স্টেশনে ডিপো থেকে তেল আসে না। রিজার্ভে থাকা কিছু তেল তাঁরা বিক্রি করেন। যিনি ২০০ টাকার তেল নিতেন, তিনি ২ হাজার টাকার তেল নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আগে তিন গাড়ি তেল আনতাম, এখন দেয় এক গাড়ি। ফলে এখন আমরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দিচ্ছি না।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। তবে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তেল কিনছেন।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝