মাহবুব হাসানের ‘কবিতার শিল্প উপাদান’ পাঠ উন্মোচন
সাহিত্য ডেস্ক

কবিতার শিল্প উপাদান: মাহবুব হাসান
ফারুক মোহাম্মদ ওমর
বাংলা সাহিত্যের এই প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কবির নাম #কবি মাহবুব হাসান। আপাদমস্তক সাহিত্যবোদ্ধা এই সতেজ কবি আমাদের সাহিত্যাঙ্গণে নানাভাবে প্রাসঙ্গিক। যার বহুমাত্রিকতা আমাদের শিল্প চেতনাকে নানান বোধনে অলংকৃত করে। আমি তাঁর নিবিড় পাঠক। কবিতার পাশাপাশি তাঁর সৃজনশীল গদ্যভাষা এককথায় সবাইকে আকৃষ্ট করে। কবিতায় সমর্পিত এ কবি কবিতার শিল্পবোধ সৌন্দর্য ও চিত্রকল্প নির্মাাণে স্বমহিমায় পারঙ্গম। কবিতার ওপর তাঁর বেশ কিছু গদ্য আমাদের সাহিত্য সমাজে বেশ সমাদৃত। কবিতায় বিষয়বৈচিত্র্য ও লক্ষ্যযোগ্য।
অবশ্য অসংখ্য প্রেমের কবিতাও লিখেছেন তিনি; লিখেছেন শৈশবস্মৃতি নিয়ে, একান্ত ব্যক্তিক সুখ—দুঃখ নিয়ে, মেকি সভ্যতার জারি জুরি নিয়ে, নগরজীবনের জটিলতা ও যন্ত্রণা নিয়ে। পশুপাখির ওপরেও নিবদ্ধ হয়েছে তার দৃষ্টি। আমার আজকের পাঠ পর্যালোচনা তাঁর গদ্যসন্তান‘কবিতার শিল্প উপাদান’ নিয়ে। তাঁর গদ্য রচনাকৌশলে এ গ্রন্থটি ভিন্নতর চিন্তার মাত্রা। নবযুগ প্রকাশনী থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বের হয় বইাট। উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রিয় বন্ধু রাগীব আহসানকে। গ্রন্থটির শুরুতে কবি মাহবুব হাসান লিখেছেন‘কবিতার রাজপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রায়শই মনে হতো এই সৃষ্টি প্রকরণের ভেতর মহলে যা আছে তা যদি পাঠকদের জানাতে পারতাম।অর্থাৎ কবিতা পড়ে আমি যা বুঝেছি, আমার চেতনা যেভাবে নাড়া খেয়েছে, সেই কথাগুলোই যদি লিখি, তা কি পাঠকদের মনে দাগ কাটবে? একথা ভেবেই, আট—এর দশকের গোড়ায় কবিতা নিয়ে গদ্য লিখতে শুরু করলাম। দেখি, যা কিছু পড়াশোনা আমার তাতে সূচিমুখ হয়ে যাচ্ছে। সেই শুরু।’
গ্রন্থটিকে গবেষক পাঠকদের সামনে চারটি ভাগে উপস্থাপন করেছেন।চারটি ভাগেই আছে বিষয়ভিত্তিক গদ্যালোচনা। যেমন— কবিতার উপাদান, মানুষ নিসর্গ—প্রকৃতি এবং সময়। কবিতায় জল আর বৃক্ষের শুশ্রƒষা। আমাদের কবিতার কাল,এপার—ওপার বাংলা। কবিতার ঘোর, উপমারূপকে লোকজ উপাদানে।
এসব আলোচনা গ্রন্থবদ্ধ করতে গিয়ে কবি মাহবুব হাসান তুলে এনেছেন কালজয়ী কবিদের কবিতা।যেমন— আহসান হাবীবের‘স্মৃতির সন্তান ও ধাবমান ছায়া হরিণ’ আল মাহমুদের ‘ প্রেম প্রকৃতি দ্রোহ আর প্রার্থনার কবিতা, জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছে’র চোখ,মুণ্ডুহীন জল্লাদের অবাক মুণ্ডুদাতা,কবিতার নতুন দরজা!।
লিখেছেন— ঝরা পালকের পূর্বাধিকারী নজরুল।নজরুলের কবিতা: নতুন চিন্তার দ্যুতি। নজরুলের শিরদাঁড়া রোমান্টিকতা। নজরুল তিরিশ কবিতার সূচক। কোরবানী স্বাধীনতার দ্যোতক। বাংলাভাষার প্রথম বামপন্থী কবি। নজরুলের প্রবন্ধ মিথিক ঐতিহ্য।
কবিদের কোনো গুরু নেই প্রত্যেক কবিই তাঁর শিল্পবোধের গুরু। কবিতা অনেক রকমের। কবিতার শ্রেণিগত নানা বৈচিত্র্য। কবিতাকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় বিষয়বস্তু এবং উদ্দেশ্য কিংবা ছন্দবৈশিষ্ট্য কে কেন্দ্র করে। কবির মনোভঙ্গির বিভিন্নতার আলোকেও কবিতাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। কবি মাহবুব হাসান আলোচ্য গ্রন্থে এই সকল বিষয় অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন। যা একজন প্রকৃত সত্ত্বার কবি উপলব্ধি করেে থাকেন।
সর্বোপরি কবি মাহবুব হাসানের ‘কবিতার শিল্প উপাদান’ চিন্তার ক্ষেত্রে ইন্টাটেক্সচুয়ালিটি নির্মাণ করেছে । যা আমাদের সাহিত্য সমকালে বিরল। আমি এই কথা শিল্পীর সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।




















