৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াতের
বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় কর্মী , সমর্থক ও দেশবাসীর প্রতিকৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের স্বার্থে কাজ করবেন। তিনি বলেছেন, সারাদেশে ‘গত কয়েক মাসে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেকেই সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন এবং কেউ কেউ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের এই সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।’
গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনেটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। জামায়াত আমির লেখেন, ‘গত কয়েক মাসে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেকেই সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন এবং কেউ কেউ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের এই সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলে অনেকেই হতাশ ও ব্যথিত হতে পারেন, তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। এবারের নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদে দলের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে জামায়াত। এটা কোনো ধাক্কা নয়। এটি একটি ভিত্তি।’
রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০ আসনে নেমে এসেছিল। এবার ২০২৬ সালে সরকার গঠনের পথে বিএনপি, যে যাত্রায় সময় লেগেছে ১৮ বছর। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার-বিশ্বাস অর্জন করুন, হিসাব করার ক্ষমতা রাখুন এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত হোন।’নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা শুধু নির্বাচনি প্রচারণায় নয় বরং জনগণের রায়কে কীভাবে গ্রহণ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের আন্দোলন কখনো একটি নির্বাচন নিয়ে হয়নি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও জবাবদিহিতা রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। জামায়াত একটি নীতিবান, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখবে। নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটল।’
৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াতের:
এদিকে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে। এসব আসনের ভোট পুনর্গণনা এবং সংসদ সদস্যদের শপথ না পড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য কলেন মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩০টি আসনের ভোট কারচুপির অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আগামীতে আরও তথ্য আসবে এবং সেগুলো গণমাধ্যমে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আমার আসনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আমি সেগুলো তুলে ধরেছি। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরশাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
আ. দৈ./কাশেম




















