ব্যালট ছাপা ও এনআইডি-বিকাশ নম্বর নেওয়ার অভিযোগ করলেন আমীর খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘পত্রপত্রিকা ও সামাজিকমাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে।
তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে তা নয়, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে সাবধান হতে হবে।’
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ-নাগরিক মিলে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল। গণতন্ত্রের জন্য কখনো আপস করেনি। তারা তো নির্বাচনই চায়নি। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ সময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে।’
বিএনপি জিতলে জাতীয় সরকার গঠন করবে কি না, এমন প্রশ্নে দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘তাহলে কোয়ালিশন সরকার গঠনের কথা ভাববে বলে জানিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে, ৩১ দফার সঙ্গে যদি অন্য দলের দফা ও পরিকল্পনা মেলে এবং বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আলাপ–আলোচনার ভিত্তিতে কোয়ালিশন সরকার গঠন করার কথা ভাববে। যদিও এর সম্ভাবনা কম।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গড়তে অতীতের মতো নাগরিকেরা বিএনপিকে বিজয়ী করবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম বন্দরকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেকে ব্যবহার করতে পারবেন। যে রকম এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন হয়েছে চট্টগ্রামে, যা আমাদের আশপাশের দেশের কোথাও হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ প্রমুখ।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে ১১ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, বেকার তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন, পানীয় জলের ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা করা, দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন পরিকল্পনা, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা দূর করে টেকসই সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতিশীল করা, নাগরিক সেবায় বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর করে একীভূত ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা চালু ও পরিকল্পিত, আধুনিক ও অগ্রগামী নগর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
আ.দৈ/আরএস





















