রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্দেহের তালিকায় বিমান ক্যাপ্টেন
নির্বাচন বানচাল করতে বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম   (ভিজিট : ২৬০৯)
X

নির্বাচনের ঠিক আগে ঘটবে জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের ঘটনা। আর সে লক্ষ্যেই তড়িঘড়ি করে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার সঠিক যাচাই ছাড়াই এক ক্যাপ্টেনকে দ্রুত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বোয়িং ৭৮৭ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 

সম্প্রতি একাধিক গোয়েন্দা তথ্যে মিলেছে এমনি তথ্য। বিষয়টি নিয়ে মেঘ ঘনীভূত হওয়ার সূত্র ধরে এনিয়ে সবশেষ একটি গোয়েন্দা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন বেসরকারী বৈমানিকদের সংগঠণ বাপার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সাথে। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঐ কর্মকর্তাকে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন ,  “আসলে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তের স্বার্থে যে কোন সদস্যের খবরা খবর নিতে ফোন করতেই পারেন তবে সেটির গভীরতা কি তা আমাকে জানানো হয়নি। অর্থাৎ কি কারনে তদন্ত করছেন সেটি আমাকে তিনি (গোয়েন্দা কর্মকর্তা) বলেন নি।”

সন্দেহভাজন ঐ বৈমানিকের নাম জানাতে তিনি অস্বিকৃতি জানালেও তিনি প্রয়াত ক্যাপ্টেন শাহাবের ছেলে কি না? যার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চাকুরীর ক্ষেত্রে বয়স সীমা মানা হয়নি? এবং বিগত প্রায় ১৬ বছর তিনি পারিবারিক ক্ষমতার দাপটে বিমানের স্পর্শকাতর পোস্ট দখলে রেখেছিলেন? তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তনাধীন বলে এড়িয়ে যান। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় ও সামরিক গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। তবে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে গোয়েন্দা বাহিনীর কাজ সেটি যাচাই বাছাই করা। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হলে অবশ্যই রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।  

উল্লেখ্য অভিযুক্ত সেই ক্যাপ্টেনের বাবা ক্যাপ্টেন শাহাব বলে অসমর্থিত একটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে। তার নাম তাপস। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগদানের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারিত থাকলেও বাবার প্রভাবে নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই বিমানে যোগদান করেন। যা প্রচলিত নিয়োগবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন বিমান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। 

অভিযোগ সূত্র বলছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছুদিন আগে ক্যাপ্টেন তাপসের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের কয়েক নেতার গোপন এক বৈঠক হয় বলে নিশ্চিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। 

যেহেতু ক্যাপ্টেন তাপস নিয়মিত ভারতের আকাশসীমায় যাতায়াত করেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে যে ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের আগে  আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষন করতে জিম্মি পরিস্থিতি  সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাতে পারে। সূত্র মতে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে যেকোনো সময় ভারত বা অন্য কোন দেশের মাটিতে বিমান অবতরণ করিয়ে নির্বাচন বাঞ্চাল পরিস্থিতি, কিংবা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা বা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন কিংবা অন্য যেকোন পরিস্থিতি জন্ম দেয়ারে উদ্দেশ্যে একটি বিমান ছিনতাইয়ের নীলনকশা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়ে থাকতে পারে।  যার দায় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদি কোন দলের উপর। 

অভিযোগ রয়েছে যে এই নীলনকশার পেছনে কাজ করছেন ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা, ভারতের কিছু উচ্চপর্যায়ের নেতা এবং বিশেষ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।বিধি অনুযায়ী, একজন ক্যাপ্টেন চাইলে বিমান ব্যবহার করে যেকোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে বিমান কর্তৃপক্ষ এমন একজন পাইলটের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

অভিযোগ বলছে, ক্যাপ্টেন তাপস ও তার বাবা বেসামরিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরও ভারতীয় বিভিন্ন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারী বিভিন্ন মহলে তারা সুপরিচিত। দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন আগে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার সঠিক যাচাই ছাড়াই ক্যাপ্টেন তাপসকে দ্রুত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বোয়িং ৭৮৭ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক। 
এদিকে সন্দেহভাজন ক্যাপ্টেন তাপসের বাবার বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় ক্যাপ্টেন শাহাব সদ্য প্রয়াত জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একাধিকবার অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যার দালিলিক প্রমান রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  

অভিযোগ রয়েছে যে বাবার হাত ধরেই  ছেলের  ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পরিচয় ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াতেন বিমান। অযোগ্যদের বিভিন্ন পদ পদবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে সংস্থার অভিজ্ঞ পাইলটদের নামে নানান সময় কয়েকটি অসৎ গণমাধ্যমের সহায়তায় বিভিন্ন গুজব ও অভিযোগ রটিয়ে তদন্তের ফাঁকগলে আটকে দিতেন। যার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

ভারতীয় বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও কার্গো বহনকারী উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সঙ্গে আতাত করে অদক্ষ জনবল নিয়োগ ও পদায়নের ধারাবাহিকতায় বিমান জাতীয় পতাকাবাহি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটির এজেন্ডা বাস্তবায়নে।

অভিযোগ রয়েছে যে ক্যাপ্টেন তাপস তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ক্যাপ্টেন শুমেলার সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। ক্যাপ্টেন শাহাব আওয়ামীপন্থী হওয়ার কারণে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি তার ছেলে তাপসকে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখেন এবং বিমানের অপারেশনস কন্ট্রোল কার্যত তার ছেলের মাধ্যমে ১২ বছর নিয়ন্ত্রণে রাখেন। 

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাপ্টেন তাপস গত প্রায় বারো বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক প্রভাবশালী পদে অধিষ্ঠিত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।

এদিকে ক্যাপ্টেন তাপস ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক আদায়ারে মাধ্যমে ফ্লাইট থেকে নির্ধারিত ফার্স্ট অফিসারকে সরিয়ে তার স্থলে নিজের পরিচিত মইনুল নামের এক ক্যাপ্টেনকে নিয়োগ দেন। যদিও সেসময় স্ট্যান্ডবাই হিসেবে অফিশিয়ালি আরেক সিনিয়র ক্যাপ্টেন উপস্থিত ছিলেন।  

অনভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনের কারনে সেই ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পর কেবিনের সিলিং থেকে যাত্রীদের অক্সিজেন মাস্ক নিচে নেমে আসে। এমন পরিস্থিতি উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় উড়োজাহাজের লেজ রানওয়ে স্পর্শ করলেই ঘটে থাকে। একই ফ্লাইটে উড়োজাহাজের টায়ার ফেটে যাওয়া ও রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।   

তবে সে সময় ক্যাপ্টেন তাপস বিমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদস্য (ফ্লাইট সেফটি এবং রেগুলেশন) এয়ার কমোডর মো: মুকিতুল আলম মিয়ার অফিসিয়াল ফোন নাম্বারে একাধিক ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন তাপসের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝