রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে দরপত্র জালিয়াতি, সিন্ডিকেটের কবজায় ১০০ কোটির কাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম  আপডেট: ২৯.০১.২০২৬ ৬:২২ পিএম  (ভিজিট : ২১৩)
X

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (বিআরইবি) দরপত্র প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫-৬ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন নির্মাণ ও পূর্ত কাজসহ বড় বড় প্রকল্পগুলো নিজেদের কবজায় রাখছে। 

৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও এই চক্রটি বিআরইবি-র কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। শর্তের বেড়াজালে প্রতিযোগীদের পথ বন্ধ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা জোন (উত্তর)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের অধীনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে ৬০-৭০ কোটি টাকার কাজ সিন্ডিকেটভুক্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার জন্য দরপত্রের শর্তাবলীতে নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ দরপত্রের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন সব কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা কেবল ওই সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব।

অনিয়মের প্রধান দিকগুলো হলো:
 * অভিজ্ঞতার সময়সীমা সংকুচিত করা: সাধারণত ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা কমিয়ে ৩ বছর করা হয়েছে।
 * সাব-কন্ট্রাক্টরদের বাদ দেওয়া: সরকারি নীতিমালায় সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাকে বৈধ ধরা হলেও, বর্তমান দরপত্রগুলোতে শুধুমাত্র ‘প্রাইম কন্ট্রাক্টর’ হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
 * অস্বাভাবিক কার্যমূল্যের শর্ত: প্রতিযোগিতার পথ বন্ধ করতে অভিজ্ঞতার আর্থিক সীমা প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৭০-৭৫% করা হয়েছে।
 * জেভি (JV) সুবিধা বাতিল: একাধিক প্রতিষ্ঠান মিলে জয়েন্ট ভেঞ্চারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা প্রমাণের সুযোগ রাখা হয়নি, যা পিপিআর (PPR) বহির্ভূত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি নির্দেশনার অবজ্ঞা
বিআরইবি-র এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘ডিআরএস ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাঃ লিঃ’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিআরইবি চেয়ারম্যানকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়ে পত্র জারি করে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই বিআরইবি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে দরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় এবং প্রকৃত দক্ষ ঠিকাদারদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ
ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, সিন্ডিকেটের এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পিপিআর (PPR) অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত না করে নির্দিষ্ট কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝