বিশ্বমানের প্রযুক্তি পুরস্কার জিতল হকআইজ ডিজিটাল
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হকআইজ ডিজিটাল মনিটরিং লিমিটেড যুক্তরাজ্যভিত্তিক কর্পোরেট ভিশন ম্যাগাজিন আয়োজিত টেকনোলজি ইনোভেটর অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ সেরা এআই-চালিত রিটেইল অ্যানালিটিক্স ও মার্চেন্ডাইজিং অটোমেশন কোম্পানি নির্বাচিত হয়েছে।
এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার যুক্তরাজ্যের এআই গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত কর্পোরেট ভিশন ম্যাগাজিন প্রদান করে, যা ২০১০ সাল থেকে প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও বিপণন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন ও শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
পুরস্কারটি বিভিন্ন বাজারে পরিমাপযোগ্য প্রভাব ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অবদানের জন্য দেওয়া হয়।বর্তমানে দ্রুতগতির ভোগ্যপণ্য (ফাস্ট-মোভিং কনজু্্যমার গুডস -এফএমসিজে) খাতে খুচরা বিক্রয়ের দুর্বলতার কারণে ব্র্যান্ডগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত তাদের রাজস্বের ২০-২৪% শেল্ফ স্পেস ও ইন-স্টোর প্রদর্শনের জন্য বাণিজ্য প্রচারে ব্যয় করে, কিন্তু পণ্যের দৃশ্যমানতা ও প্রাপ্যতা প্রায়শই অপর্যাপ্ত থাকে।
বাংলাদেশে এই সমস্যা আরও তীব্র। দেশের প্রায় ২২ লাখ খুচরা দোকানের ৯৮% এরও বেশি অসংগঠিত পাড়ার মুদি দোকান, যেখানে ডিজিটাল অবকাঠামো প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে পণ্য দোকানে পৌঁছানোর পরও ব্র্যান্ডগুলো দৃশ্যমানতা হারায়। ঐতিহ্যবাহী ম্যানুয়াল অডিট (মাঠ প্রতিনিধিদের দিয়ে) সময়সাপেক্ষ, ত্রুটিপূর্ণ এবং মাত্র ৩০-৬০% নির্ভুলতা দেয়, যার ফলে প্রচার বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক লোকসান হয়।
হকআইজের ফ্ল্যাগশিপ সমাধান এম-লেন্স এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সরাসরি মোকাবিলা করে। কম্পিউটার ভিশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এই এন্ড-টু-এন্ড মার্চেন্ডাইজিং অটোমেশন প্ল্যাটফর্মে মাঠ প্রতিনিধিরা শুধু খুচরা দোকানের ছবি তুললেই হয়। সিস্টেমটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পণ্য শনাক্ত করে, ইনভেন্টরি গণনা করে, ফাঁকা শেল্ফ ধরে এবং অন্যান্য মার্চেন্ডাইজিং সমস্যা চিহ্নিত করে।
ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ফিল্ড টিমের উৎপাদনশীলতা ৭০% পর্যন্ত বেড়েছে; ম্যানুয়াল ডেটা এন্ট্রি একেবারে বাদ যাওয়ায় সময় বাঁচছে; বিক্রয়ে ১৫-৩০% বৃদ্ধি বা সমপরিমাণ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।
হকআইজকে বিশেষ করে আলাদা করে তুলেছে এর স্থানীয় বাস্তবতা-কেন্দ্রিক ডিজাইন। পশ্চিমা দেশের খুচরা প্রযুক্তির বিপরীতে এম-লেন্স তৈরি করা হয়েছে জনাকীর্ণ দোকান, মিশ্র বাংলা-ইংরেজি সাইনবোর্ড, দুর্বল ইন্টারনেট ও বর্ষাকালীন ব্যাঘাতের মতো বাংলাদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। শিল্পের অন্যতম বৃহৎ এফএমসিজে-এসকেইউ ডেটাসেটে প্রশিক্ষিত এই প্ল্যাটফর্ম এখন ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি আউটলেট পর্যবেক্ষণ করছে—আধুনিক ও সাধারণ বাণিজ্য উভয় ক্ষেত্রেই।
এছাড়া প্ল্যাটফর্মটি বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিংও একীভূত করেছে, যাতে একই অ্যাপ থেকে বিলবোর্ড ও ইন-স্টোর স্টক মনিটর করা যায়। দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজে কোম্পানিগুলো এটি গ্রহণ করেছে এবং এন্টারপ্রাইজ-লেভেল নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
হকআইজের সিইও মির্জা ফেরদৌস ওহিদ বলেন, “শেল্ফে মাত্র ১% উন্নতি হলেও বিক্রয় ২-৩% বাড়তে পারে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে চাইলে এ ধরনের সমাধান এখন অপরিহার্য।”
এই পুরস্কার বাংলাদেশের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্রমবর্ধমান অবদানকে তুলে ধরেছে। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় চ্যালেঞ্জ বুঝে বিশ্বব্যাপী সমস্যার সমাধান তৈরি করা সম্ভব।
আ. দৈ./কাশেম/ এস রহমান




















