কুশিকাটা-ম্যাক্রিমে স্বপ্ন বুনছে নারীরা
মো. সাকিব আসলাম,ইসলামী বিশ্ব. কুষ্টিয়া:

গ্রামের নারীরা আগে বিকেলে অলস সময় কাটাতেন, হাতের কাজের প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পরিবেশ বা সুযোগের অভাবে সেই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারতেন না। আজ সেই ছবি বদলেছে। এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক সাব্বির আহমেদের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘সজ্জাঘর’ এখন গ্রামীণ নারীদের জন্য নতুন আশার আলো।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত পিআরএ মিটিংয়ে নারীদের সমস্যাগুলো উঠে আসে। অধিকাংশ নারীর প্রধান সমস্যার মধ্যে ছিল কর্মসংস্থানের অভাব। অনেকেই কাজ শিখতে আগ্রহী হলেও সুযোগ নেই। সেই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে সাব্বির আহমেদ নারীদের জন্য এই সজ্জাঘর চালু করেন।
এখানে নারীরা নিয়মিত শিখছেন কুশিকাটা, ম্যাক্রিম, সেলাইসহ বিভিন্ন হাতে কাজ। শুধু শেখা নয়, কাজের মাধ্যমে তারা উপার্জনও করছেন। বর্তমানে একজন ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ জন নারী কর্মরত।
এক কর্মরত নারী বললেন, “আগে বিকেল মানেই সময়ের অপচয়, এখন আমরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। উপার্জন কম হলেও আমরা আশা দেখছি, এবং আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যও ফিরছে।”
সাব্বির আহমেদ জানান, “নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর আহমেদ আখতারুজ্জামান স্যারের অনুপ্রেরণায় এই কাজের সূত্রপাত। পিআরএ মিটিংয়ে একশো জনের মধ্যে ৩০ জন নারীর একই সমস্যা ছিল কর্মসংস্থান। তাদের জন্য কাজ করার অভিপ্রায় থেকেই এই যাত্রা শুরু। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম নারীদের জন্য কিছু করার, এখন সে সুযোগ এসেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জানিনা কতদূর সফল হবে এই উদ্যোগ, কিন্তু চেষ্টা করে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সকলের সহযোগিতায় একদিন এটি আশার আলো দেখাবে।”সাজানো, শিখানো এবং উপার্জন—এই তিনটি অঙ্গনে এই সজ্জাঘর এখন শোভা ছড়াচ্ছে সেই অঞ্চল জুড়ে।ফারহানা নওশিন তিতলী, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
আ. দৈ./কাশেম




















