ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের অনেক ত্যাগ রয়েছে: গোলাম পরওয়ার
নির্বাচনের অপেক্ষায় গোটা জাতি: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন গোটা জাতি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব হলো যথার্থ সাংবাদিকতা করা, কর্মীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া। কোনো দলের লেজুরবৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না।
আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। অধিবেশনে বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে এবং বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম,ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাবেক সভাপতি এলাহীনেওয়াজ খান সাজু, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুন্সী আবদুল মান্নান,সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবেন।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা নেই; ইচ্ছেমতো মন্তব্য করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও সংগঠিতভাবে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে অপপ্রচার চালানো হয় যে, মনে হয় একধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। মব তৈরি করা হচ্ছে। মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে। একজন মানুষকে ভিন্নভাবে প্রচার করে তাঁকে হেয় করা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি বলেন ,‘আমরা সবাই অপেক্ষা করছি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারি। তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। ভিন্নতা থাকবেই। আমি আপনার সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে ভিন্নমত মানেই শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়।’
বিএনপি একটি প্রমাণিত রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, তার দল ঘোষিত ৩১ দফায় গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা তাঁদের পরীক্ষিত কমিটমেন্ট।
অধিকার আদায়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না। গত ১৫ বছরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে ধ্বংস করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি তার অনুরোধ, এ জায়গা থেকে তার যেন বেরিয়ে আসেন, ঐক্যবদ্ধ হন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নিজেদের দাবিদাওয়া, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ—এসব নিয়ে মালিকপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে শক্তভাবে কথা বলা উচিত। কোনো দলের ওপর নির্ভর করলে অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের সাংবাদিকতা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থের ব্যবহ্নত হচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশা সভ্যতার অন্যতম মানদণ্ড হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বেই এই পেশা তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার যে লক্ষ্য, সত্য সংবাদ পরিবেশন করা, সাদাকে সাদা বলা, কালোকে কালো বলা সেই স্থিরতা আজ আমরা ধরে রাখতে পারছি না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবাদিকতা এখন অনেক ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সুবিধা ও স্বার্থঘেঁষা আচরণের কারণে পেশাগত মর্যাদা হারাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়া হাউসগুলো যেন কোনো ব্যক্তির ব্যবসায়িক পুঁজি রক্ষা, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা অথবা অর্থনীতি ও দুর্নীতির লুটপাটের পাহারাদার হিসেবে গড়ে উঠেছে।
দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৬৮ জন সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন, ছয়জন শাহাদাত বরণ করেছেন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে লেখা থাকবে। আজকের সাংবাদিকরা যদি কিছু স্বার্থ ত্যাগ করে জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তবে নতুন বাংলাদেশ গঠনে বড় অবদান রাখতে পারবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু ন্যাশনাল কনসেন্সাস থাকা দরকার। ক্ষমতায় গেলে কোনো দল যেন ভিন্ন মতকে দমন না করে, সামাজিক ন্যায়বিচারের সুযোগ সবার জন্য সমান রাখে। আমরা চাই বাংলাদেশ হোক করাপশন-ফ্রি। দুর্নীতির সাথে যারাই জড়িত, তাদেরকে না বলুন।
আ. দৈ./কাশেম




















