আসামি : প্রকোৗশলী মেজবা.মজিবুর .সালাম ও ঠিকাদার হারুন
ঢাকায় ধলপুরে সুইপার কলোনি নির্মাণে দুর্নীতি: প্রকৌশলীসহ ৪ জনের নামে দুদকের চার্জশিট
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বহুল আলোচিত ঘটনা,রাজধানীর ধলপুরে অভিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ‘কথিত সুইপার কলোনি’ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার,নকশায় অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগের মামলা হয়েছিল। ঘটনার অনেক পরে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
মামলায় প্রকল্পের ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ গ্রুপের তিনটি ভবন নির্মাণে মোট ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয় দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মামলাটি টানা ৯ বছর চাপা পড়ে ছিল। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ওই পুরনো মামলায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট সাবেক ৩ প্রকৌশলী এবং এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মেজবাহুল করিম, তার সহযোগি (সাবেক) সহকারী প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান ও (সাবেক) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অব.) মো. আব্দুস সালাম এবং মেসার্স নাজমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ। শিগগির তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মনির মিয়া আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন বলে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মো.আক্তার হোসেন। দুদক কর্মকর্তা জানান, মামলাটি ২০১৬ সালের ২০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আবদুছ ছাত্তার সরকার। তদন্ত করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনির মিয়া।
দুদকের তদন্তে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার আগেই ভিত্তিহীন কারিগরি বিশ্লেষণের ওপর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও প্রাক্কলন প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে সঠিক নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি তদারকির ঘাটতি ছিল, তবুও কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রত্যয়ন দিয়ে ঠিকাদারকে বিল প্রদান করা হয়।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ গ্রুপের তিনটি ভবন নির্মাণে মোট ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে জানায়, ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সিদ্ধান্তে ভবনগুলো ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের তদন্তে আরও দেখা যায়, আসামিরা যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও ক্ষতি সাধন করেছেন। মৃত আসামি মো. আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দিয়ে অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে কমিশন।
আ. দৈ./কাশেম




















