সরকারের কাছে অবিলম্বে বিহারী ক্যাম্পে পানির লাইন স্থাপনের দাবী
ডেস্ক রিপোর্ট:

আজ রবিবার (২৮ সেপ্টম্বর) দুপুরে মিরপুর ১২ এর বেগুনটিলা¯’ পূর্ব কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্প শাখা কার্যালয়ে বাংলাদেশী বিহারী পূনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) এর যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর কমিটি, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প শাখা পল্লবী থানা কমিটি ও এর ওয়ার্ড শাখা ও মিরপুর ১০, ১১, ১২ এর ক্যাম্প সমূহের সভাপতি, সেক্রেটারী সহ আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপত্বি করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ কাওসার পারভেজ ভুলু। প্রধান অতিথি ছিলেন বিবিআরএ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক নেয়াজ আহমদ খান। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল-১ ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ ও পঞ্চম বাহিনী মোকাবিলায় করনীয় নির্নয়। ২। পল্লবীর ছোট বড় বিহারী ক্যাম্পে অনতি বিলম্বে ওয়াসার পানির লাইন ¯স্থাপনে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা ৩। জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে উর্দুভাষী বিহারী জনগোষ্ঠীর করনীয় নির্ধারণ ও ৪। বিহারীদের পূনর্বাসন আন্দোলন জোরদার করা।
যৌথ সভায় সিমান্ত এলাকা ইন্ডিয়ান বিএসএফ কর্তৃক নিরিহ বাংলাদেশী হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ইন্ডিয়ান পরিকল্পনায় বিজিবি নামটি অবিলম্বে পরিবর্তনের দাবী জানিয়ে বিডিআর নাম পূর্নবহাল করে সিমান্তে প্রয়োজনে ভাড়ায় টার্কিস বা চাইনিজ সৈন্য মোতায়েন এর জন্য বিহারীদের যৌথ সভা হতে সরকারের প্রতি সর্বসম্মতিক্রমে আহবান জানানো হয়। বিবিআরএ এর যৌথ সভায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম অবিলম্বে নিষিদ্ধ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয় পঞ্চম বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন বিহারী নেতৃবৃন্দ। দালাল ও ভন্ড রাজনীতিকদের ষড়যন্ত্র হতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষার্থে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের উর্দুভাষী বিহারী নেতৃবৃন্দ।
বিহারীদের যৌথ সভায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংহতিমূলক কর্মসূচী গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভা হতে ডাকুস সহ নির্বাচিত সকল ছাত্র সংসদ নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানানো হয়। শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা যাতে কোনভাবে ব্যহত না হয় তার জন্য সরকারকে সভা হতে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়।
এডিবির অর্থায়নে গত ৫ বছর পূর্বে রাজধানীতে ¯স্থাপিত ওয়াসার নতুন পানি সরবরাহ লাইন বিহারী ক্যাম্পে ¯স্থাপন না করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পে পানির নুতন লাইন না বসানোর জন্য বিহারী নেতৃবৃন্দ তাদের যৌথ সভায় বর্ণবাদী মনোভাবাপন্ন পলাতক খুনী লীগ, তাদের দোষর ঢাকা ওয়াসার দূনীতিবাজ কর্মকর্তা ও ¯স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রকে দায়ী করেছেন। ওয়াসা ভবনে পানির সমস্যা নিরসনে গত ২৩/০৯/২০২৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সভাকে বিহারীদের যৌথ সভায় সময় ক্ষেপনের কৌশল ও দায়সারা বলে অভিহিত করেছেন।
১৯৭৬ সালের মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে সরকার বিহারীদের পূনর্বাসন না করা পর্যন্ত সরকারি ভাবে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দ্বায়িত্ব গ্রহন করলেও ঢাকা ওয়াসার দূনীতিবাজ কর্মকর্তাগণ বিহারী ক্যাম্পে অবৈধ পানির লাইন সংযোজন বানিজ্য চালিয়ে রাখতে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত বিহারীদের অহেতুক হয়রানি করছে।
উর্দূভাষী বিহারীদের যৌথসভা হতে পল্লবীর বিহারী ক্যাম্পে অবিলম্বে পানির লাইন ¯স্থাপনের দাবী জানানো হয়েছে। যৌথ সভা হতে বিহারী নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি লিটার পানি অপচয় ও অবৈধ সংযোগ এর সাথে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়েছে। বিহারী ক্যাম্পে নতুন পানির লাইন স্থাপন না করার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন বিবিআরএ এর নেতৃবৃন্দ। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার পরও ওয়াসাতে কর্মরত পঞ্চম বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওয়াসা বর্তমানে স্বেত হস্তিতে পরিনত হয়েছে। সরকারের এই সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রæত এগিয়ে আসতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিহারী নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশে উর্দূভাষী বিহারী জনগোষ্ঠির জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশী বিহারী পূণর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) সরকারকে অবিলম্বে উত্থাপিত ৭ দফা দাবী মেনে নিয়ে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছেন। শিক্ষা বঞ্চিত বিহারীদেরকে দ্রুত পূণর্বাসন করলে সরকার অনাঙ্কাঙ্খিত খরচ হতে রক্ষা পাবে এবং বিহারীগণ সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে গিয়ে দেশ গড়ার কাজে বেশি করে অংশ গ্রহন করার সূযোগ পাবে বলে যৌথ সভায় অভিমত ব্যাক্ত করা হয়। বিবিআরএ' এর সভা হতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দূর্গাপুজার শুভে”ছা জানানো হয়। সভায় বিহারী নেতৃবৃন্দ দূর্ণীতি ও মাদক ব্যবসাকে স্বাধীনতা সার্বভৌত্বকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার দাবী জানানো হয়।
যৌথ সভায় অন্যন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কুতুবুদ্দিন শাহ, পল্লবী থানার শাখার সভাপতি মোঃ সাবান সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহতাব ভাসানী, আরমান দিল্লীওয়ালা, আসলাম বকশী, সুলতান আহম্মদ, মোঃ সোলায়মান, আব্দুল্লাহ আলী, বেলাল আহমদ, মোঃ রেজা, আরমান, সাব্বির, ফয়সাল, রিয়াজ উদ্দিন মুকুল, মোঃ নাসিম, আসমা বেগম, সিমা মুলতান, নান্নু মহাজন, মোঃ সনু, মুর্শিদ, মোঃ আজগর, আনিসুর রহমান বেচু, এহসান, খুরশিদ, শওকত, কামাল খান, ওয়াহিদ, আবরার আলী মনা, আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
আ. দৈ./কাশেম




















