রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর অলিতে গলিতে ইফতারের পসরা
ওয়াকিয়া কেয়া
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম  আপডেট: ০৩.০৩.২০২৫ ৭:৩৫ পিএম  (ভিজিট : ২৯৪)
X

আবারো বছর ঘুরে পবিত্র মাহে রমজানে রাজধানী ঢাকা ফিরে পেলো তার বাহারি রুপ। রাজধানীর ছোট-বড় বাজারের পাশাপাশি অলিগলিগুলোও জমে উঠেছে হরেক রকমের ইফতার আয়োজনে। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। 

কেউ ভাজছে পেয়াজু, কেউ ভাজছে জিলাপি কেউবা বড় বড় পাতিলে হালিম নাড়ছে।  ইফতার আয়োজনে ভোজনরসিকদের কাছে রোজার বিশেষ মুহূর্তকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে বাহারি পদগুলো । তাই ইফতার টেবিলে চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি নানান পদের খাবারের চাহিদা অনেক। সে অনুযায়ী প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর সব এলাকাতে ইফতার আয়োজনে স্থান পেয়েছে বাহারি সব পদ। প্রতিটি এলাকা ও মহল্লার মূল সড়ক, গলিসহ মোড়গুলোতে অস্থায়ী দোকান ও রেস্টুরেন্টে ইফতারির ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে। 

ইফতারের কথা হবে আর চকবাজারের নাম উঠবে না এমনটা ভাবাও যায় না।  ঢাকার ৪০০ বছরের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ চকবাজারের ইফতার। ঐতিহ্য, আভিজাত্য, স্বাদ, মান সব দিক বিবেচনায় চকবাজারের মুখরোচক ইফতার ঢাকার বাসিন্দারের আবেগেরই অংশ। আধুনিকতার ছোয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টালেও পাল্টায়নি পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতারের ঐতিহ্য। 

বরাবরের মতো এবারের রমজানের প্রথম দিন থেকেই  জমে উঠেছে চকবাজারের ইফতার বাজার। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান চকবাজারে শাহি মসজিদ তৈরি করেন। আর ওই বছরের রমজানকে কেন্দ্র করেই শাহি মসজিদ ও এর আশপাশে গড়ে ওঠে ইফতার বাজার। আর সেই থেকে টানা সাড়ে ৩০০ বছর ধরে ঐতিহ্যের সঙ্গে পথ চলে এখনো ইফতার বাজারে সবার ভালোলাগার জায়গা চকবাজারের ইফতার বাজার। 

এখানকার দোকানগুলোর ইফতারের মেন্যুতে পাওয়া যাচ্ছে সুতি কাবাব, টিক্কা কাবাব, জালি কাবাব, মোরগ পোলাও, লাবাং, পরোটা, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, পেঁয়াজু, শাহি জিলাপি, শাকপুলি, ডিম চপ, কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, আস্ত রাজ হাঁসের ফ্রাই, নূরানি লাচ্ছি,হালিম, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, ছানামাঠা, কিমা পরোটা, ছোলা, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ ইত্যাদি। 

এই বাজারের ইফতারের অন্যতম সুস্বাদু খাবার গরুর সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার এবং খাসির সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শাহি ছোলা ২৮০, ঘুঘনি ১৪০, চিকেন আচারি ১ হাজার ৩০০ এবং কাশ্মীরি বিফ আচারি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া অন্য খাবারগুলোর মধ্যে প্রতিটি জালি কাবাব ৩০, টানা পরোটা ৫০, কিমা পরোটা ৭০, কাঠি কাবাব ৪০ এবং ডিম চপ ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পাশাপাশি দইবড়া ১০০ টাকা (তিনটি), ফালুদা কেজি ২২০ টাকা, পেস্তা বাদাম শরবত ২৫০ টাকা লিটার, মুরগির ললিপপ প্রতিটি ৪০ টাকা, চিকেন ফিংগার ৪০ টাকা, চিকেন স্যান্ডুইচ ৫০ টাকা, চিকেন ¯িপ্রং রোল ৪০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা, চিকেন রোল প্যাটিস ৪০ টাকা, চিকেন প্যাটিস ৫০ টাকা, চিকেন শর্মা ৭০ টাকা, চিকেন রেশমি কাবাব ৫০ টাকা, মিনি পিৎজা ৭০ টাকা এবং চিকেন টিক্কা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আস্ত রাজহাঁসের কাবাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, কায়েল ফ্রাই ৮০ টাকা, মুরগি ফ্রাই ৪০০ টাকা, গুটি কাবাব কেজি ১২০০, দইচিঁড়া হাফ কেজির বাটি ৮০ টাকা, শাহি জিলাপি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত, সবজি শাহি পরাটা পিস ৬০ টাকা, কিমা পরাটা ৮০ টাকা, প্লেন পরাটা ৪০, ফালুদা হাফ কেজি বাটি ১০০, পেস্তা বাদামের শরবত হাফ লিটার ১০০, পেঁপের শরবত ৫০, তরমুজের শরবত ৮০ টাকা, মালপোয়া পিস ২৫ টাকা, কিমা সমুচা ১৫ টাকা, গরুর কলিজার শিঙাড়া, চিকেন ফ্রাই ৪৫ টাকা পিস, চিকেন শর্মা ৪০, চিকেন সাস্লিক ৩৫ টাকা, চিকেন কাকোজ ৪০ টাকা, দইবড়া ৫ পিস ১০০ আর ১০ পিস ২০০ টাকা, চিকেন টোস্ট ৪০-৪৫ টাকা, কাশ্মীরি নান ১০০-১২০ টাকা, গরুর কোপ্তা ২০ টাকা পিস।

গত বছরে এমনই রমজানে আগুন লাগে বেইলি রোডের গ্রীন কোজি ভবনে। যার প্রভাব পড়েছিলো বেইলি রোডের ইফতার বাজারে। তবে পুরোনো ক্ষত সারিয়ে উঠে এবার জমে উঠেছে রাজধানীর বেইলি রোডের ইফতার বাজার। রমজানের শুরুতেই পছন্দের ইফতার কিনতে বেইলি রোডের নবাবী ভোজ ও বেইলি পিঠা ঘরে ক্রেতাদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। নবাবী ভোজের বিভিন্ন আইটেমের হালিম কিনতে লাইন দিচ্ছেন ক্রেতারা। অপরদিকে বেইলি পিঠা ঘরের গুড়ের জিলাপিসহ বেশকিছু আইটেম বিক্রির শীর্ষে রয়েছে।

জানা গেছে, নবাবী শাহী হালিম ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ঘি ও জাফরানে ভাজা নবাবী স্পেশাল শাহী জিলাপি ৪৫০ টাকা কেজি, ঘি ও জাফরানে ভাজা নবাবী স্পেশাল বোম্বে জিলাপি ৩৫০ টাকা কেজি, ঘি ও জাফরানে ভাজা নবাবী স্পেশাল রেশমি জিলাপি ৬০০ টাকা কেজি, নবাবী জর্দা ২৫০ টাকা কেজি, নবাবী ক্ষিরসা ফালুদা ৩৫০ টাকা কেজি, নবাবী জাফরানি পেস্তা বাদাম শরবত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, নবাবী বোরহানি ১২০ থেকে ২৩০ টাকা বোতল, নবাবী লাবাং ১২০ টাকা লিটার, সুইট লাচ্ছি ২৫০ টাকা লিটার, চিকেন ঝাল ফ্রাই ১৪০০ টাকা কেজি, বিফ ভুনা ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি, মাটন ভুনা ১হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরেও দেখা যায় রমজানের জমজমাট আয়োজন। বড় হাঁড়িতে হালিম নাড়ছেন হোটেল কর্মচারীরা, তার পাশেই আবার ধনিয়া। পুদিনা, লেবু, শসা, কাঁচামরিচের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র দোকানি। দোকান বড় হোক কিংবা ছোট ছোলা বুট আর মুড়ির উপস্থিতি যেন সর্বজনীন।যদিও বাজার দর আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি, কিন্তু তার বড় প্রভাব পড়েনি ইফতার সামগ্রীতে। মালিবাগ রেলগেটে ছোলা-মুড়ি বিক্রেতা জসিম  বলেন, ‘ছোলা-মুড়ির দামে আসেনি বড় কোনো পরিবর্তন। এ ছাড়া বুরিন্দা ও ঘুমনিতেও দাম পরিবর্তন হয়নি খুব একটা।’

বেগুনি-পিঁয়াজু বিক্রেতা হাসিব লেন, ‘দাম বাড়ায় বেগুনিতে বেগুনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে আগের মতোই ১০ টাকা পিসে বেগুনি, ৫ টাকা পিঁয়াজু এবং ১৫ টাকায় ডিম চপ বিক্রি হচ্ছে।’

এর পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে জিলাপি ও হালিম। রেস্তোরাঁয় বিক্রি হওয়া জিলাপির কেজি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। অন্যদিকে মোড়ে মোড়ে বিক্রি হওয়ার জিলাপির দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের প্রতিবাটি গরুর মাংসের হালিম জায়গা ভেদে ১৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এ ছাড়া বিক্রি হচ্ছে আস্ত মুরগি, খাসির রেজালা, শাহি টুকরা, জালি কাবাব, ঝাল পিঠা, চিকেন সাসলিক, চিকেন চপ, ভেজিটেবল রোলসহ নানা পদের ইফতার।

বিক্রেতারা জানান, প্রথমদিন থেকেই ইফতার পণ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। মূলত ছোলা-মুড়ি থেকে শুরু করে সব ধরনের ইফতারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিকিকিনি।

আ.দৈ/আরএস


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝