রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দক্ষিণ সিটিতে কর্মচারীদের কোয়াটারের শতাধিক ফ্ল্যাট অবৈধ দখলে, উদ্ধারের উদ্যোগ নেই
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩৩ পিএম  আপডেট: ০৪.০১.২০২৫ ৮:৩৯ পিএম  (ভিজিট : ৪৯১)
X

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারীদের জন্য নির্মিত স্টাফ কোয়াটারগুলোর শতাধিক ফ্ল্যাট বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের দখলো। অবৈধ দখলদাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের কতিপয় কর্মচারী এবং বেশ কয়জন মাদককারবারী ও ক্লিনার। 

অবৈধ দখলদাদের এতোটাই ভঙ্কর যে,ওইসব কোয়াটারের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বৈধভাবে বসবাসকারী ডিএসসিসির নিরীহ কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। শুধু তাইনয়, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের ব্যবহ্নত পানি,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মোটা অংকের বিল নিরীহ কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসের প্রথমেই ফ্ল্যাটের ভাড়াসহ যাবতীয় বিল বৈধভাবে বসবাসকারীদের বেতন থেকে কেটে নিচ্ছেন ডিএসসিসির কর্তৃপক্ষ। 

 নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসসিসির সারাধরণ কর্মচারীরা জানান, স্টাফ কোয়ারে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে দুই থেকে ৩ লাখ টাকা করে উৎকোচ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদেরকে। অথচ মাসের পর মাস তাদের পেছনের ঘুরেও সহজে ফ্ল্যাটের বরাদ্দ পাওয়া যায় না। অনেক দেনদরবারের পরও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সীমিত লোকজনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বৈধভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া যেন চাকরি পাওয়ার চেয়েও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এইটা যেন সোনার হরিণ পাওয়া। কিন্তু সেখানে মাসের পর মাস শতাধিক ফ্ল্যাট আঝ অবৈদখলে রয়েছে।

 ওইসব ফ্ল্যাট উদ্ধারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব , প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এদিকে অভিযোগ রয়েছে,ডিএসসিসি ১০ নম্বর আউটফল স্টাফ কোয়াটারের ১৮০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬৫টি ফ্ল্যাট অবৈধ দখলে রেখেছে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। ওই স্টাফ কোয়াটারের অবৈধ দখলকারীরা এতোটাই প্রভাবশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা কিংবা তাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়ার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছেন না ডিএসসিসির প্রশাসন।

 ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে গোপনে আতাতের মাধ্যমে বহিরাগত দখলদারা বিনা ভাড়ায় মাসের পর মাস পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত ২৭ অক্টোবর ওই কোয়াটারে স্থায়ী বরাদ্দ প্রাপ্ত কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বহিরাগত ,সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে ডিএসসিসির , প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরই রাতারাতি ডিএসসিসির ১০ নম্বর আউটফল স্টাফ কোয়াটারের ১৮০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬৫টি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল করেছে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

 ফলে বৈধভাবে বসবাসকারী ১১৫টি ফ্ল্যাটের নিরীহ কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। যেকোন সময় বড় ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হবার আতঙ্কে রয়েছেন ওই কোয়াটারের নিরীহ লোকজন। অদ্যাবদি তাদের আবেদনটি চাপা পড়ে রয়েছে। সূত্র মতে, রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় গণকটুলি সিটি কলোনীতে হরিজন সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করেন। ডিএসসিসির ক্ষতিগ্রস্ত হরিজন সম্প্রদায়ের ২৪০টি পরিবারের জন্য নির্মিত কোয়াটারটি। 

গত বছর ৯ অক্টোবর লোকজন জানতে পারেন ওই কোয়াটারের ফ্ল্যাটে ২১৮টি পরিবারের নাম আছে। বাকি ২২টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নাম নাই। ২১টি ফ্ল্যাট/ ঘর অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এই অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে, সমাজকল্যাণ যুব সংঘের কথিত নেতা ধীরশ দাস (ধীরা) ও সভাপতি জনি দাস ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন দাসের বিরুদ্ধে। তারা বিভিন্ন জায়গার লোকজনের কাছ থেকে কাগজ পত্র সংগ্রহ করে একই পরিবারকে ২-৩টি করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছেন। 

 আরো অভিযোগ রয়েছে, নাজিরা বাজার সুইপার কলোনী, গোপিবাগ সুইপার কলোনী, ওয়ারী সুইপার কলোনী ও পোস্তগোলা সুইপার কলোনী এদের কাছে ঘর বিক্রি করা হয় এবং চেয়ারম্যান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এরা নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে ঘর বিক্রি করেনে। তারা ওইসব ঘর বিক্রি কওে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রটি ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগশাজসে বাহিরের লোকজনের কাছে ফ্ল্যাট/ ঘর বিক্রিলাখ লাখ টাকা নিয়েছেন।

 ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ২২টি পরিবার ফ্ল্যাট/ঘর থেকে বাদ পড়েছেন। সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা গ্রহণের আদেন জানানো হয়েছে। এদিকে সার্ভেয়ারে মো. আলমগীরের সাথে কথা হয়। তিনি স্টাফ কোয়াটারের অবৈধ দখলদার, মোটা অংকের চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে ফ্ল্যাট/ ঘর বিক্রির সাথে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 আ. দৈ. / কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝