জামায়াত আমিরের সাড়া না পেয়ে শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
বগুড়া প্রতিনিধি

চাকরির জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে বারবার গিয়েও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক শিবির নেতা সাব্বির প্রামাণিক। সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে চিঠি লিখেও প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ার দাবি করেন তিনি। অবশেষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশের পর বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে চাকরি পেয়েছেন সাব্বির।
বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনা এবং হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাঁকে ভালো বেতনও দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবারে।
জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আসে। প্রতিবেদনটি দেখে তিনি সাব্বিরের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন।
চাকরি পেয়ে সাব্বির বলেন, অনেকবার জামায়াতের নেতাদের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছেন। কিন্তু চাকরি না দিয়ে তাঁকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। এখন ভালো বেতন পাওয়ায় পরিবারের সবাই স্বস্তিতে আছেন।
সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতায় হামলার শিকার হন তিনি। ওই ঘটনায় তাঁর সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
সাব্বিরের দাবি, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাঁকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতার কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেও অসুস্থতার কারণে কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। চিকিৎসার ব্যয় ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি।
এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। চিঠিতে সংগঠনের জন্য কাজ করলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। চাকরির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
অবশেষে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় সাব্বিরের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন অসুস্থ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনাটি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















