ঢামেক হাসপাতালে ইনুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তবে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় হাসানুল হক ইনুকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপরে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সার্বিক সহযোগিতায় তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসানুল হক ইনুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলার বিচার চলছে।
এদিকে আজ বুধবার বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় হাসানুল হক ইনু আপিল আবেদন করেছেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সিফাত মাহমুদ। এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তবে তিনটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ফলে সব মিলিয়ে তাকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলা করা হয়।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও বিচার চলছে।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আগেই আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আপিলে হাসানুল হক ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। ফলে একই রায়কে কেন্দ্র করে একদিকে খালাস চেয়েছেন ইনু, অন্যদিকে তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আ. দৈ./একে




















