অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-শৃঙ্খলাসহ সব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব আছে, চ্যালেঞ্জ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা নেই। পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে মাঝে মাঝে আক্রমণের শিকার হয়। এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা সব সময়ই রয়েছে, যেহেতু সব বিভাগ একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
বুধবার চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। আমরা অপরাধীদের দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিচ্ছি। আর পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ যদি আসামিকে সহায়তা দিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেব, যদি আপনারা তথ্য দেন। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
অপারেশন ক্লিন হার্টের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই।
বাংলাদেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছি। কোরীয় সরকারের কাছে আজ আমরা এসব ফরেনসিক ল্যাব, বিশেষ করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের জন্য সহযোগিতা চেয়েছি। বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, প্রতারণা হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজিও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে হচ্ছে। এসব অপরাধ উদ্ঘাটন ও দমনের জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা পরিকল্পনা করেছি, সাইবার পুলিশ ইউনিটের ল্যাবরেটরি সুবিধা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে, যা ভিসেরা রিপোর্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এর সম্প্রসারণও জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বিচারিক ব্যবস্থায় মানুষের বিচারপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে এসব বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর প্রত্যয়ন প্রয়োজন হয়। যুগের প্রয়োজনে এবং অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এসব প্রয়োজন মেটাতে হবে। সেই প্রয়োজন মাথায় রেখেই আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ বন্ধ, প্রতিরোধ ও দমনের জন্য উন্নত সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধাসহ সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির। অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন।
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কেওআইসিএ) সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আ দৈ /এস এন




















