গণপূর্ত অধিদপ্তর ১৫৫ নির্বাহী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্ত অধিদপ্তরে এবার লটারির মাধ্যমে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এ লটারি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন মোট ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৬ জন সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ৩৯ জন ছিলেন ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
প্রথমে লটারিতে নির্বাচিত কয়েকজনের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। এরপর লটারির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে এবং গত ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে কারো বিশেষ প্রয়োজন থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং সবাই যেন সমান সুযোগ পান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন মানবিক ও স্বচ্ছ হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় বসানোই আমাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে রূপপুর নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আমরা এখন গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে কাজ করছি। শেষ পর্যায়ে এসে গেছি। এরপর রাজউক নিয়ে কাজ করবো।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি বিভাগের জমি-জমা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কিছু দুর্নীতির কথাবার্তা শোনা যায়। আমরা ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে একটি ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দিয়েছি। এই সরকারের মেয়াদের মধ্যেই যতটা সম্ভব ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার চেষ্টা করছি। আমাদের কোন কোন জমি আছে, কোনগুলো আমাদের দখলে রয়েছে আর কোনগুলো দখলের বাইরে সবকিছু চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা বিস্তারিতভাবে কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাদের অধীনে একটি বিভাগ পরিচালিত হয়। এ কারণে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা সময় নিয়েছি। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করেছি। কর্মকর্তাদের অতীতের চাকরির রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কার কোথায় পদায়ন হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
লটারির আওতায় কতজন নির্বাহী প্রকৌশলী থাকবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ১৫৫ জনের লটারি করছি। সব বিভাগের মধ্যেই এ কার্যক্রম হবে। তবে তিন থেকে চারটি জায়গা হয়তো আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা সব জায়গায় কাজ করবো। আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই, আমাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই, শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করা। ডিজিটাল ব্যবস্থা কিংবা লটারির মাধ্যমে যেভাবেই হোক, উদ্দেশ্য একটাই।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের যেসব জায়গা দখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। আমাদের কী পরিমাণ জমি রয়েছে, তার সঠিক তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসছি। ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করছি। কোন জমি আমাদের, কোনটি আমাদের দখলে রয়েছে এবং কোনটি দখলের বাইরে, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লটারি অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন-২ সারোয়ার আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
আ দৈ/ এস এন




















