অপরাধের ট্রাইব্যুনালে কামরুলের উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি: প্রসিকিউশন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ও কারাবন্দি । বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার করেন এবং খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে চেঁচামেচি করে আপত্তি জানানোর অভিযোগও করেছে প্রসিকিউশন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগের কথা জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ‘চিৎকার-চেঁচামেচি’ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষী যখন বললেন যে আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তাকে (সাক্ষী) জিজ্ঞাসা করলেন, এই নেতারা কারা? এই প্রশ্নটা অবৈধ দাবি করে একজন আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং আপত্তি উত্থাপন করেন।
কামরুল ইসলাম বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আদালত অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে শান্ত-শিষ্টভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেন। প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য একটাই, আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা।
‘আর প্রমাণের জন্য যে প্রশ্ন করা দরকার, সেটাই প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বৈধভাবে করেছেন। আসামির বিভিন্ন অপশন থাকতে পারে। আসামি নিজে দাবি করেছেন, তিনি ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আইনজীবী। তবে প্রসিকিউটরের প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না, তিনি বৈধ প্রশ্ন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল আমাদের বক্তব্য সমর্থন করেছেন এবং এ প্রশ্ন করার শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছেন।’
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, পরেও শুনলাম, তিনি রক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এবং এটা আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। তিনি কেন করেন, এটা আল্লাহই ভালো জানেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, এর আগেও আমরা তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। এখানে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে ওপরে নিয়ে আসা-যাওয়া করেন, প্রায়ই তিনি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেনন ও কামরুল নানান উসকানি দেন। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা দুজনই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে।
আ. দৈ./একে




















