জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ ও চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির জন্য অনেক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও রক্তাক্ত। জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ঋণ রাষ্ট্র কখনোই পুরোপুরি শোধ করতে পারবে না। ভবিষ্যতে যেন দেশে এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন। এরপর তিনি দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও প্রতিকৃতি আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। জাদুঘরের বিভিন্ন অংশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন। এ ছাড়া বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন উপকরণ এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনাবলি নিয়ে তৈরি পৃথক সেকশন ঘুরে দেখেন। শহীদদের চিঠি, স্মারক ও ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের আত্মত্যাগকে দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা এবং আত্মোৎসর্গকারীদের ত্যাগ জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি। শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছও রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।
জাদুঘর পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
পরিদর্শনকালে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা, দলিল ও সংরক্ষিত স্মৃতিচিহ্ন সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত তথ্য দেন জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবদের পাশাপাশি জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
আ.দৈ/এসআর




















