হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াল
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুধবার প্রকাশিত হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম পাওয়া গেছে।
এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৭২ হাজার ৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৯৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। সন্দেহজনক হাম নিয়ে এ বিভাগে মারা গেছেন ৪০৪ জন।
আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ৩২ হাজার ৯৩৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ২ হাজার ৭১১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা এবং ঢাকা জেলায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। হাম-রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, সারাদেশে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ জন।
ফলে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশে। বিভাগগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে টিকাদানের হার সর্বোচ্চ—১১৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম কাভারেজ সিলেটে, ১০৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সেখানেও লক্ষ্যমাত্রার শতভাগের বেশি মানুষ টিকা পেয়েছেন। সিটি করপোরেশন এলাকাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও টিকা পেয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ জন। এ ক্ষেত্রে কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুরে টিকাদানের হার সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে রংপুরে সবচেয়ে কম ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে টিকাদানের হার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও হাম ও উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে থাকায় রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আ.দৈ/এসআর




















