বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদন খারিজ করে আদালত বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিআরটিএর অনুমোদনপ্রাপ্ত বাসই কেবল সড়কে চলাচল করতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো স্লিপার বাস চললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য না মানলে তা আইনের ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে পারে না।পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, বিআরটিএ যেসব বাসকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেগুলোই সড়কে চলতে পারবে। স্লিপার বাসের জন্য আলাদা কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্টও স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেননি।
ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ও বৈধ রুট পারমিট ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর সুযোগ নেই। এসব বাসকে প্রচলিত আইন এবং নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করেই চলাচল করতে হবে। অন্যদিকে রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান জানান, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল হাইকোর্ট। জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্লিপার বাসের চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান। পরবর্তীতে ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন একটি সম্পূরক আবেদন করে। সম্পূরক আবেদনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আবেদনে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস চলাচল করছে। এ পরিবহন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তবে আদালতের আজকের আদেশের ফলে অনুমোদন ও রুট পারমিটের বাইরে কোনো স্লিপার বাস মহাসড়কে চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আ.দৈ/এসআর




















